কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
কালাই উপজেলার করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলাকালে সোমবার দুপুরে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জয়পুরহাটের কালাইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রার্থীসহ দুই প্যানেলের কমপক্ষে ৯ জন আহত হয়েছে।
উপজেলার করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলাকালে সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহতদের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন।
আহতরা হলেন প্রার্থী শেখ শাহাঙ্গীর আলম ও তার কর্মী-সমর্থক শেখ হাবিবুর রহমান, মিথন মন্ডল, ইউসুফ আলী এবং অপর প্যানেলের সাদিক হোসেন, মুনছুর রহমান, জুয়েল রানা, রশিদুল ইসলাম ও রানা মিয়া।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নে করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনের জন্য চারজন অভিভাবক সদস্যর নাম নির্ধারণ করতে নির্বাচনের আয়োজন করেন কর্তৃপক্ষ। নির্বাচনে আনিছুর রহমান ও শেখ শাহাঙ্গীর আলমের নেত্বর্তে দুটি প্যানেলে ৮ জন এবং স্বতন্ত্র একজন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রচার-প্রচারণা শেষে সোমবার সকাল ৯ টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এরইমধ্যে ভোট গ্রহণ চলাকালে দুপুর আড়াইটার দিকে লাইনে এক ভোটারের সাথে কথা বলাকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্যানেলের কর্মী-সমর্থকের মধ্যে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রার্থী শেখ শাহাঙ্গীর আলমসহ দুই প্যানেলের ৯ জন আহত হয়।
পুলিশের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নিতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে।
আহত প্রার্থী শেখ শাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আনিছুর প্যানেলের লোকজন পরাজয় ভেবে ভোটের আগে থেকে আমার লোকজনকে হুমকি দিয়ে আসছে। আজ আবার তারা সবাই মিলে বাহির থেকে ভাড়াটে লোকজন এনে আমাকেসহ আমার লোকজনকে মারপিট করেছে। মামলা অবশ্যই করবো”।
প্রতিপক্ষ অপর প্যানেলের প্রার্থী আনিছুর রহমান বলেন, “সত্যের জয় হবেই হবে। শেখ শাহাঙ্গীর আলম যতই বাহানা করুক না কেন, ওর মাফ নেই। ওর চেয়ে আমার বেশী লোকজন মার খেয়ে আহত হয়েছে। আগে লোকজনদের চিকিৎসা দেই, তারপর আমিও ওদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করবো”।
প্রিজাইডিং কর্মকর্তা উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “বাহিরে মারপিটের ঘটনা হলেও আমি ভোট গ্রহণ বন্ধ করি নাই। ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ওই ঘটনায় পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করেছে”।
কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি। কোনো পক্ষ অভিযোগ বা মামলা করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।
কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিম আরা বলেন, “মারামারির খবর পেয়েছি। পুলিশ পরিবেশ শান্ত করেছে। ভোট গ্রহণে সংশ্লিষ্টরা ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল প্রকাশ করে উপজেলায় ফিরে এসেছে। মারপিটের ঘটনায় অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।