পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে
ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা মৎস্য অফিসের
আয়োজনে সোমবার (০৮ জুন) স্থানীয় একটি হোটেলের
হলরুমে অনুষ্ঠিত ওই সেমিনারে মৎস্য বন্দর আলীপুর, মহিপুর ও কুয়াকাটার প্রায় দেড় শতাধিক
জেলে এবং আড়তদার ও মৎস্যজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার নন্দীর
সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মো.
কামরুল হাসান, বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তর বরিশাল উপ-বিভাগীয় পরিচালক মো. মহসিন,
দুমকী ও মির্জাগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান, কুয়াকাটা প্রেস
ক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু, সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির প্রমুখ।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা
অপু সাহা সেমিনার সঞ্চালনা করেন। সেমিনারে বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক ৫ বছর মেয়াদি
ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় গৃহীত নানা প্রকল্পের বিষয়ে জেলে
ও মৎস্যজীবীদের অবহিত করেন মৎস্য কর্মকর্তারা।
এ সময় জেলে সমিতি ও আড়তদার সমিতির নেতা
নিজাম শেখ, কামাল হোসেন, সোবহান মাঝি, নুরজামাল, কুয়াকাটা পৌরসভার কাউন্সিলর সাবের
আহমেদসহ সেমিনারে অংশগ্রহণকারী জেলেরা সমুদ্রে ঝুঁকি মোকাবিলায় ঝুঁকি ভাতা প্রদান,
সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্ট রেডিও স্থাপন, উদ্ধার যান, শতভাগ প্রণোদনাসহ নানা
দাবি জানান। জেলেদের এসব দাবির পেরিপ্রেক্ষিতে মৎস্য কর্মকর্তারা বিষয়টি সরকারের কাছে
উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান।
সেমিনারে বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মো.
কামরুল হাসান জেলেদের উদ্দেশে বলেন, সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও বিপণনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে
ভূমিকা রাখছেন জেলেরা। তাই সরকার ইলিশ সম্পদ উন্নয়নের পাশাপাশি জেলেদের উন্নয়নে নানামুখী
উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ৫ বছর মেয়াদি প্রকল্প গ্রহণ করেছেন। সমুদ্রে মাছ শিকারে
গিয়ে নিখোঁজ বা মৃত জেলে পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও অবরোধকালীন
সময়ে প্রণোদনা দেওয়া, অসচ্ছল জেলেদের গরু প্রদান, জাল ও মৎস্য সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অবরোধকালীন জেলেদের শতভাগ প্রণোদনার আওতায় আনতে কাজ করছে সরকার।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, গত ২০২৪-২৫
অর্থবছরে ৫ লাখ ৭১ টন ইলিশ আহরণ হয়েছেÑ যা সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। ইলিশ
রপ্তানির মাধ্যমে প্রতিবছর ৩০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে।যা জিডিপির মাত্র
১ভাগ। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্যদিয়ে মৎস্য খাতে বিপুলসংখ্যক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের
লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এর মূল চাবিকাঠি হচ্ছেন জেলেরা।
এ সময় ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে জাটকা
ইলিশ নিধনসহ ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার বন্ধের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন জেলে বক্তারা।