মামলা নিতে ঘুষ দাবির অভিযোগে বন্দর মডেল থানা ঘেরাও করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নারায়ণগঞ্জ সিটির বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মো. জোবায়েরের (১৮) নামের এক তরুণ। এ ঘটনায় মামলা নিতে ঘুষ দাবির অভিযোগে বন্দর মডেল থানা ঘেরাও করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মাসুদকে সোমবার প্রত্যাহার করা হয়েছে।
বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঘুষ দাবির অভিযোগ তদন্তের স্বার্থে এসআই মাসুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া জোবায়েরের মরদেহ বন্দর এলাকায় পৌঁছালে শত শত মানুষ মরদেহ নিয়ে বন্দর মডেল থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি মামলা গ্রহণে পুলিশের গড়িমসি ও ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জোবায়ের পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীরের ছেলে। তিনি বন্দরের এনায়েতনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ৩ জুন রাত ৯টার দিকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে এনায়েতনগরের ভাঙা ব্রিজের উত্তর পাশের ঢালে তিন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। এ সময় জোবায়ের বাধা দিলে ছিনতাইকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘটনার পর জোবায়েরের বাবা জাহাঙ্গীর বন্দর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি।
জোবায়েরের প্রতিবেশী টিপু অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের জন্য থানায় গেলে জাহাঙ্গীরের এক বন্ধুর কাছে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় সে সময় মামলা নেওয়া হয়নি।
তবে এ বিষয়ে ওসি গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, “এলাকাবাসী থানায় এলে তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তারা আশ্বস্ত হয়ে ফিরে গেছেন। ঘুষ দাবির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট এসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে মামলা করতে এসে ফিরে যাওয়ার কোনো তথ্য আমার কাছে নেই”।