প্রবা প্রতিবেদক, ঢাকা ও সাতক্ষীরা
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত শফিকুল ইসলামে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের বুকফাটা কান্না। ছবি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রাম থেকে তোলা। প্রবা ফটো
গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হন দুই বাংলাদেশি রেমিট্যান্সযোদ্ধা শফিকুল ইসলাম (৪০) এবং নাহিদুল ইসলাম (২০)।
হৃদয়বিদারক এ ঘটনার প্রায় এক মাস পর রবিবার (৭ জুন) ভোরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় তাদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে তাদের মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরে তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করেন এবং এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন।
নিহত শফিকুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে নাহিদুল ইসলাম একই জেলার আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের বাসিন্দা। সংসারের অভাব ঘোচাতে ঋণ করে দীর্ঘদিন আগে লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। দেশে নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠিয়ে পরিবার ও দেশের অর্থনীতিতেও রেখে আসছিলেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। রবিবার সকালে তাদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের বুকফাটা কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মিঠু জানান, বিমানবন্দরে সরকারের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন নিহতদের স্বজনরা। জোহরের নামাজ শেষে নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা রয়েছে।
নাহিদের চাচা স্বাধীন বলেন, ‘মৃত্যুর দিন সকাল ১১টার দিকে নাহিদ ভিডিও কলে ওখানকার যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখাচ্ছিল। এর ঠিক চার-পাঁচ ঘণ্টা পরেই আমরা খবর পাই যে নাহিদ আর বেঁচে নেই। তার এই আকস্মিক মৃত্যু আমরা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না। তবে শত কষ্টের মাঝেও আমরা সান্ত্বনা পাচ্ছি যে, মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করতে পারছি।’
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে দুই দফায় ৫০ হাজার ও ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
খুলনা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. খালেদুর রহমান জানান, নিহতদের পরিবারকে প্রাথমিকভাবে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার কারণে পরিবারগুলো পরবর্তীতে সরকার ও জীবন বীমা করপোরেশনের পক্ষ থেকে আরও ১৩ লাখ টাকা আর্থিক সুবিধা পাবেন।