মোহাম্মদ মিশুক হাসান, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ)
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় নিজের বাগানের আঙ্গুর নিয়ে তরুণ উদ্যোক্তা ও কলেজছাত্র শাহারিয়া পারভেজ
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় এক কলেজছাত্র পড়ালেখার পাশাপাশি ব্যতিক্রমী ২৩ জাতের আঙ্গুর চাষ করে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। শখ থেকে শুরু করা তার এই ছোট উদ্যোগটি এখন পরিণত হয়েছে সম্ভাবনাময় বাণিজ্যে। প্রতিদিনই তার এই বাগান দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভিড় করছে দর্শনার্থীরা।
তরুণ উদ্যোক্তা শাহারিয়া পারভেজ উপজেলার যৌগীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ঝিনাইদহ কেশবচন্দ্র কলেজের বাংলা বিভাগের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ইউটিউবে একটি ভিডিও দেখে আঙ্গুর চাষে আগ্রহী হন পারভেজ। এরপর নিজ উদ্যোগে প্রথমে বাড়ির আঙিনায় ছোট পরিসরে শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে সফলতা পাওয়ার পর তিনি ২০ শতক জমিতে আঙ্গুর চাষ শুরু করেন। শুরুতে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ ও হাসাহাসি করলেও বর্তমানে তার বাগানই হয়ে উঠেছে স্থানীয়দের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে একাধিক জাতের আঙ্গুর, যার মধ্যে অন্যতম বাইকুনুন, ব্ল্যাক ম্যাজিক, জাম্বু ও শরৎ উল্লেখযোগ্য। এদের মধ্যে কিছু জাত বাংলাদেশে নতুন। উন্নত মানের চারা সংগ্রহ করতে তিনি ভারত থেকেও চারা নিয়ে আসেন। নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক কৃষি পদ্ধতির প্রয়োগে তার বাগানটি এখন দৃষ্টিনন্দন ও লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। অনেকে আঙ্গুর চাষ সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন এবং তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন। পাশাপাশি বাগান থেকেই আঙ্গুরের চারা বিক্রি করে তিনি অতিরিক্ত আয় করছেন।
কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল আল সাকিব বলেন, সঠিক তথ্য ও পরিচর্যার মাধ্যমে বাংলাদেশেও যে আঙ্গুর চাষ সম্ভব, তার বাস্তব উদাহরণ শাহারিয়া পারভেজ। আমরা তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে পাশে থাকব।
এদিকে তার বাগানে উৎপাদিত আঙ্গুর স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভালো স্বাদ ও মানের কারণে ক্রেতাদের কাছেও এর চাহিদা বেশ। ফলে উদ্যোগটি ইতোমধ্যে লাভজনক হয়ে উঠেছে।
শাহারিয়া পারভেজ বলেন, শুরুতে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম, পরিশ্রম করলে সফলতা আসবেই। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আবহাওয়া আঙ্গুর চাষের জন্য অনেকটাই উপযোগী। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে প্রায় সারা বছরই ফল পাওয়া সম্ভব। স্থানীয় এক যুবক বলেন, চাকরির পেছনে না ছুটে তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা আমাদের মতো তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে আঙ্গুর চাষ দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।