ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৫ ঘণ্টা আগে
ভৈরব রেলওয়ে থানা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দুই এলাকার বাসিন্দাদের সংঘর্ষের দুই দিন পর মামলা হয়েছে।
থানা ভবন ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে শনিবার সকালে ভৈরব রেলওয়ে থানায় মামলাটি করা হয়।
মামলার বাদী ভৈরব রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আফজাল হোসেন। এতে দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হলেও তাদের সবার পরিচয় অজ্ঞাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভৈরব রেলওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ শনিবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়রা জানান, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভৈরব পৌর শহরের পঞ্চবটি ও জগন্নাথপুর এলাকার যুবকদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার জেরে গত ৪ জুন বিকেলে ভৈরব স্টেশন সংলগ্ন জগন্নাথপুর এলাকার সোহেল মিয়ার ছেলে লিয়ামকে মারধর করে পঞ্চবটি এলাকার লোকজন। এরপর জগন্নাথপুর ও পঞ্চবটি এলাকার লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে দুই পক্ষই রেল স্টেশনে পাথর নিক্ষেপ করে।
রেলওয়ে থানা পুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে ভৈরব থানা-পুলিশ ও শহর ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তারাও ব্যর্থ হলে ভৈরব র্যাব ক্যাম্প ও ভৈরব সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভৈরব রেলওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাঈদ আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষকারীরা রেলওয়ের স্টেশন এলাকা দখল করে তাণ্ডব চালিয়ে রেল স্টেশন ও রেলওয়ে থানার ব্যাপক ক্ষতি করে। এ সময় সংঘর্ষকারীরা স্টেশন প্লাটফর্ম ও সংলগ্ন এলাকায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দোকানে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তারা দোকানের আসবাবপত্র ও মালামাল নষ্ট করে সাধারণ জনগণ ও যাত্রী সাধারণের মনে চরম আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করে। সমগ্র স্টেশন এলাকায় এক শ্বাসরুদ্ধকর ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় দেড় শতাধিক লোককে আসামি করে মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ভৈরব স্টেশন মাস্টার ইউসুফ মিয়া বলেন, “সংঘর্ষের ঘটনায় স্টেশন ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। তবে নির্দেশনা না থাকায় এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছি না”।