বিছানায় শুয়ে স্মার্টফোনে গেম খেলছে একটি শিশু
দক্ষিণাঞ্চলে মোবাইল আসক্তিতে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ শিশু দৃষ্টিশক্তির সমস্যা নিয়ে ভুগছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। অভিভাবকরা বলছেন, বাইরে খেলার সুযোগ না থাকায় মোবাইল দেখে সময় পার করতে গিয়ে অভ্যাস হয়ে গেছে শিশুদের।
চিকিৎসকদের মতে, অভিভাবকদের উদাসীনতাই এই সমস্যার জন্য দায়ী। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ শিশু অসুস্থ অবস্থায় থাকলেও তাদের হাতে মোবাইল। সেখানে ইউটিউব দেখে অথবা গেম খেলে সময় কাটাচ্ছে তারা। এমনকি হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসা অথবা স্বজনদের সঙ্গে আসা বেশিরভাগ শিশু মোবাইলে গেম খেলে সময় কাটাচ্ছে।
অভিভাবক ও মোবাইল আসক্ত শিশুরা বলছেন, বাইরে খেলার সুযোগ না থাকায় মোবাইল দেখে দেখে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি মোবাইল না পেলে অনেক শিশু খাবার মুখে তোলে না বলেও জানান অভিভাবকরা।
সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া শিশির দাস বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছে চিকিৎসা নিতে। এ সময় কথা হয় তার সঙ্গে। শিশিরের দাবি, বাইরে খেলার কোনো সুযোগ পায় না সে। স্কুল শেষে বাড়ি ফিরে ঘরেই সময় কাটে। এমনকি বিকালে পড়তে হয় প্রাইভেট। এ অবস্থায় খেলাধুলার কোনো সময় পায় সে। ফলে সময় পেলেই মোবাইলে দেখে সময় কাটে তার। ইউটিউবে ভিডিও দেখার পাশাপাশি খেলে গেম। এতে চোখে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।
রাহিমা নামে এক অভিভাবক বলেন, মোবাইল ছাড়া আমার ছেলে ভাতও খায় না। তাকে মোবাইল দিতে হবে তারপর ভাত খাবে। অভ্যাসটা বদলের চেষ্টা করছি।
ব্রিটিশ জার্নাল অব অফথালমোলজির তথ্য বলছে, ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন শিশুর সংখ্যা বেড়েছে তিন গুণ। শিশুদের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়ার ঘটনা এশিয়া মহাদেশে সবচেয়ে বেশি।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশুদের ওপর করা এক পরিসংখ্যানের তথ্য বলছে দক্ষিণাঞ্চলের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ শিশু-কিশোর মোবাইল আসক্তির কারণে ক্ষীণ দৃষ্টিতে ভুগছে।
শের-ই-বাংলা হাসপাতালের চক্ষু বিভাগ বলছে, প্রতিদিন হাসপাতালে আসা বিপুল সংখ্যক শিশু রোগীর কেস স্টাডি করে দেখা গেছে, অন্তত এক তৃতীয়াংশ শিশুর চোখের ক্ষতির প্রধান কারণ মাত্রাতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার।
হাসপাতালটির চক্ষু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ইদানীং একটি সমস্যা হচ্ছে শহর অঞ্চলের বেশিরভাগ বাচ্চাদের মোটা মোটা চশমা ব্যবহার করতে হচ্ছে। দূরের জিনিস দেখতে পায় না, কাছের জিনিস দেখতে পায়, যে রোগের নাম মায়োপিয়া। আর এ রোগে আক্রান্ত বাচ্চাদের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ হবে। এটা হওয়ার কারণ ইদানীং বাচ্চাদের মোবাইল আসক্তি।