এনায়েতুর রহমান, পটুয়াখালী
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের চরহোসনাবাদ গ্রামের মোসলেম ফরাজীর জীবন এখন অসহায়ত্বের প্রতীক। যে মানুষটি একসময় নিজের কষ্টের উপার্জনে ছোট তিন ভাইকে মানুষ করেছেন, আজ তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ কন্যাসন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক তথ্য অনুযায়ী, মৃত বারেক ফরাজীর ছেলে মোসলেম ফরাজী ছোটবেলা থেকেই পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। নিজের কষ্টার্জিত আয় দিয়ে তিন ছোট ভাইকে বড় করেছেন, সংসার গুছিয়েছেন এবং পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য নিরলস পরিশ্রম করেছেন।
পরবর্তীতে তার সংসারে জন্ম নেয় পাঁচ কন্যাসন্তান। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও মেয়েদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। তবে কয়েক বছর আগে তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে কর্মক্ষমতা হারান। শয্যাশায়ী হয়ে পড়ার পর পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে।
সংসারের হাল ধরতে বড় দুই মেয়ে রিপা ও আঁখিনুর পড়াশোনা বন্ধ করে গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি নেন। তাদের উপার্জনেই কোনোভাবে চলছে পরিবারের ব্যয়ভার। অন্যদিকে ছোট তিন বোন তানজিলা, কাজল রেখা ও তাইয়েবা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন।
মোসলেম ফরাজীর কন্যাদের অভিযোগ, পৈতৃক সম্পত্তিতে চারটি বসতভিটার অস্তিত্ব থাকলেও পাঁচ কন্যাসন্তান থাকার কারণে তাদের বাবাকে প্রাপ্য অংশ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, মোসলেম ফরাজীর ছোট ভাই রাজ্জাক ফরাজী ও জালাল ফরাজী আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে তার অংশের জমি ও বসতভিটা দখলে রেখেছেন। এমনকি মোসলেম ফরাজীর নিজ উদ্যোগে নির্মিত ঘরটিও তারা ভোগদখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারটির দাবি, মোসলেম ফরাজীর অসুস্থতা ও অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে সম্প্রতি তার দুই ভাই তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি শুরু করেন। একপর্যায়ে হামলা চালিয়ে ঘর ভাঙচুর ও উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয়। এরপর থেকেই পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
পক্ষাঘাতগ্রস্ত মোসলেম ফরাজী জানান, তিনি তার সম্পত্তি মেয়েদের নামে লিখে দিলেও ভাইদের বিভিন্ন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা এবং অসহায় পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।