মোস্তাফিজুর রহমান, কয়রা (খুলনা)
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রবা ফটো
খুলনার কয়রা উপজেলার সুন্দরবন উপকূলবর্তী দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৫২ নম্বর দক্ষিণ বেদকাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে কোনো মুসলিম শিক্ষক নেই।
ফলে বাধ্য হয়ে হিন্দু শিক্ষকরাই মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বিষয়ের পাঠদান করাচ্ছেন। আরবি ভাষা ও সূরা-কেরাত জানা না থাকায় শিক্ষকরা কেবল বাংলা অর্থটুকু রিডিং পড়িয়ে দায়িত্ব শেষ করছেন। এতে শিক্ষার্থীরা সঠিক ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে মোট শিক্ষার্থী সংখ্যা ২৩৬ জন। এর মধ্যে ৯ জন হিন্দু শিক্ষার্থী বাদ বাকি ২২৭ জনই মুসলিম। অথচ কর্মরত পাঁচজন শিক্ষকের সবাই সনাতন ধর্মাবলম্বী (অন্য একজন ডেপুটেশনে রয়েছেন)। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থার কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের এই বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন, যার প্রভাব পড়ছে সার্বিক উপস্থিতিতে।
অথচ দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে এই বিদ্যালয়টি টানা সাতবার বার্ষিক ফলাফলে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। সর্বশেষ প্রাথমিক বৃত্তিতেও একটি ট্যালেন্টপুলসহ তিনটি বৃত্তি পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।
অভিভাবক শাহারুল ইসলাম ও আমেনা বেগম বলেন, শিক্ষকরা নিজেরা হিন্দু হওয়ায় তাদের পক্ষে আরবি সূরা বা কবিতা শুদ্ধভাবে শেখানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে কোমলমতি শিশুদের বুনিয়াদি শিক্ষা অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অপূর্ব কুমার পাল বলেন, ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে নতুন শিক্ষকরা এখানে পোস্টিং পেলেও দ্রুত বদলি হয়ে চলে যান। তবে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি, আশা করি দ্রুতই কোনো মুসলিম শিক্ষক এখানে নিয়োগ পাবেন।
কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার তপন কুমার কর্মকার জানান, সরকারি শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় হিন্দু বা মুসলিম আলাদা করে পদায়নের নিয়ম নেই, যার ফলে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে আগামী জেলা পর্যায়ের মিটিংয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অতিদ্রুত সমাধান করা হবে।