কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ৩ ঘণ্টা আগে
কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশন এলাকায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে রেলস্টেশন এলাকায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন। এ সময় স্টেশনমাস্টারের কক্ষ, টিকিট কাউন্টারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুর চালায় হামলাকারীরা। এ ঘটনায় ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ রেলপথে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে শত শত যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয়দের কয়েক সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন আগে ভৈরব পৌর এলাকার পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুরের তরুণদের মধ্যে একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জগন্নাথপুরের সোহেল মিয়ার ছেলে লিয়ামকে (১৭) পঞ্চবটীর ছেলেরা মারধর করে। এ খবর জগন্নাথপুরে ছড়িয়ে পড়লে ভৈরব রেলস্টেশনের ১ ও ২ নম্বর প্লাটফর্ম দখল করে দুই গ্রামবাসী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন স্টেশনমাস্টারের কক্ষ, টিকিট কাউন্টারসহ কয়েকটি অফিস কক্ষে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চলতে থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পেতে হয়। পরে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ এবং প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে রাত দেড়টার পর মেঘনা সেতুর কাছে আটকে থাকা ঢাকাগামী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
ভৈরব রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার মো. ইউছুফ জানান, ফুটবল খেলার বিরোধকে কেন্দ্র করে রাত ৮টা থেকে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে রাত দেড়টার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা হয়।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত। রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে দুপক্ষের লোকজন আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তারা ভৈরব রেলস্টেশন ও রেললাইনে চলে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য, সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম মামুনুর রশিদ বলেন, এই সংঘর্ষের কারণে দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। রেলস্টেশনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে। যারা এ ঘটনায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।