চাটমোহর (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩ ঘণ্টা আগে
হাশেম প্রামাণিক। প্রবা ফটো
পাবনার চাটমোহরে ভেজাল দুধ কারবারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার অভিযোগে সংঘবদ্ধ হামলায় আহত হাশেম প্রামাণিক (৪৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত আড়াইটার দিকে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। এর আগে গত শুক্রবার (২৯ মে) এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় চাটমোহর থানায় মামলা দায়েরের পর শাহীন নামে এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
হাশেম প্রামাণিক উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া গ্রামের মৃত নুর আলী প্রামাণিকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নটাবাড়িয়া গ্রামে ভেজাল দুধ তৈরির ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মামিন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে কেমিক্যাল মিশ্রিত ভেজাল দুধ তৈরি করে বিভিন্ন দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রে সরবরাহ করতেন।
বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুসা নাসের চৌধুরী তার কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল, ভেজাল দুধ এবং দুধ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আব্দুল মামিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ঘটনার পর তিনি দল থেকে সাময়িক বহিষ্কারও হন।
তবে কিছুদিন পর আবারও ভেজাল দুধ তৈরির কার্যক্রম শুরু করলে দ্বিতীয় দফায় অভিযানে তার বাড়ি থেকে আবারও বিপুল পরিমাণ কেমিক্যাল ও ভেজাল দুধ জব্দ করে প্রশাসন। এ ঘটনায় আব্দুল মামিন, তার বাবা এবং আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে পুলিশ তার বাবাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
এদিকে প্রশাসনের কাছে তথ্য সরবরাহ করার সন্দেহে গত (২৯ মে) হাশেম প্রামাণিকসহ কয়েকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুল মামিন ও তার সহযোগীরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে হাশেমসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
আহত হাশেম প্রামাণিককে প্রথমে পাবনা হাসপাতালে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরলেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং গত বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান।
চাটমোহর থানার ওসি অলিউর রহমান জানান, নিহত হাশেমের ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের পর এজাহারভুক্ত আসামি শাহীনকে গ্রেপ্তার করে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।