লালমনিরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২ ঘণ্টা আগে
আপডেট : ২ ঘণ্টা আগে
লালমনিরহাট সীমান্তে পুশইনের সময় বিএসএফকে চ্যালেঞ্জ করে বিজিবি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
লালমনিরহাটের তিনটি পৃথক সীমান্তে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে স্থানীয়দের সহায়তায় এ অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি। এ ঘটনায় সীমান্তজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা এবং আদিতমারী সীমান্তে শুক্রবার ভোরে এ পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
স্থানীয় ও বিজিবি জানায়, পাটগ্রাম সীমান্ত (১০ জন), শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাবুল কামাত পানিসালা (পয়ষট্টি বাড়ী) সীমান্তে ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধীনস্থ সীমান্ত পিলার ৮৪৬-এর ১/২ এস-এর মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে ভারতীয় ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মহানদী ক্যাম্পের সদস্যরা এ চেষ্টা চালায়। এছাড়া হাতীবান্ধা সীমান্ত (১১ জন) ফকিরপাড়া সীমান্তে ৫১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ এলাকায় ১১ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
আদিতমারী সীমান্ত (১২ জন) দীঘলটারি সীমান্তে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ এলাকায় ১২ জনকে পুশইনের চেষ্টা হয়। এর মধ্যে ৯২৫ মেইন পিলারের কাছে ৫ জন এবং ৯২৫/৭ সাব পিলারের কাছে ৭ জনকে দেখা যায়। এর বিপরীতে রয়েছে বিএসএফের ৭৮ ব্যাটালিয়নের পদ্মা ক্যাম্প এবং বিএসএফের ৩ ব্যাটালিয়নের মদনাকুড়া ক্যাম্প।
এদিকে পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির টহল দল ও স্থানীয় জনগণ তীব্র বাধা দিলে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়। পুশইনের শিকার হওয়া এ ১০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, মোস্তফা বিশ্বাস (২৬), আজগার আলী (৫৪), মোর্শেদ (২০), রেহানা বিশ্বাস (২২), ফাতেমা বিবি (৩০), জাহেদা বেগম (৪০), অনুপা (২০), লিসা খাতুন (২৫), তাসলিমা (২৬) এবং একটি শিশু। তারা সকলেই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।

দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা টহল জোরদার করেছেন। স্থানীয়রাও বিজিবির সঙ্গে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন”।
তিনি বলেন, “আমরা কোনোভাবেই ভারত থেকে লোকজনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেব না। বিএসএফের এ ধরনের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে”।
বড়খাতা সীমান্তের বাসিন্দা আওলাদ হোসেন বলেন, “বিজিবির বাধার মুখে লোকজন এখনো ভারতীয় অংশে অবস্থান করছে। এলাকাবাসীও বিজিবির সঙ্গে সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন”।
তিনি বলেন, “অবৈধভাবে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা আমরা প্রতিহত করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব”।
লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, “অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করা ব্যক্তিদের সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে”।
তিনি আরও বলেন, “আমি নিজেও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছি। এ বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে”।