অগ্নিকাণ্ডে নিহত নূরুল আমিন সোহাগ। ছবি: সংগৃহীত
ভগ্নিপতির চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে রাজধানী নয়াদিল্লির একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হন নূরুল আমিন সোহাগ (৪০) নামের একজন বাংলাদেশি।
এরপর আহত অবস্থায় তাকে দিল্লির একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে দক্ষিণ দিল্লির হাউজ রানি ও মালভিয়া নগর এলাকার পাঁচতলা ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ হোটেলে বুধবার সকালে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
একই ঘটনায় তার ছোট বোন ও ভগ্নিপতি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন। বর্তমানে তারা নয়াদিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
চিকিৎসকদের বরাতে পরিবারের সদস্যরা জানান, তাদের শারীরিক অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন।
নিহত সোহাগ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের মধ্যম সাঙ্গীশ্বর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আব্দুস সোবহানের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সোহাগের ভগ্নিপতি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে গেলে চিকিৎসকরা দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। উন্নত চিকিৎসার আশায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিল্লি যান সোহাগ।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের উৎপত্তি। অল্প সময়ের মধ্যে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে কক্ষে আটকা পড়াদের মধ্যে। এ সময় অনেকে আহত হন।
উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় নূরুল আমিন সোহাগকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসক বৃহস্পতিবার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন বৃহস্পতিবার রাতে তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ওই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আটজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা ছিল গুরুতর। গুরুতর আহতদের একজন নূরুল আমিন সোহাগ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
হাইকমিশন আরও জানিয়েছেন, আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, “সোহাগ খুবই ভালো মনের মানুষ ছিল। কারও বিপদের কথা শুনলে বসে থাকতে পারত না। অন্যের জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন হারাবে, এটা কখনও ভাবিনি।”
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। মরদেহ দেশে আনা কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় সহযোগিতা লাগলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করা হবে।”
ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জানা গিয়েছে, ওই অগ্নিকাণ্ডে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অন্তত ২২ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ভারত ছাড়াও কয়েকটি বিদেশি দেশের নাগরিক থাকায় ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলেও উল্লেখ করে গণমাধ্যমগুলো।