‘ভুয়া’ সমাজসেবা অফিসার
বরগুনায় সমাজসেবা অফিসার পরিচয় দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাকিয়া সুলতানা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন জসিম মিয়াসহ দশজন। কোলাজ: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বরগুনার আমতলীতে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সরকারি বিভিন্ন ভাতা পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দশ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ওই নারীর নাম জাকিয়া সুলতানা। তিনি উপজেলার চাওড়া পাতাকাটা এলাকার লতিফ মাদবরের মেয়ে।
সাংবাদিকদের বৃহস্পতিবার কাছে এই অভিযোগ করেন জসিম মিয়াসহ দশজন। আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তবে এর আগে মে মাসের ২০ তারিখে তারা আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও জানান তারা।
তারা বলেন, জাকিয়া সুলতানা নিজেকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করে আসছিলেন।
গভীর নলকূপ স্থাপন, ফ্যামিলি কার্ড, ভিজিএফ, ভিজিডি কার্ড, বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি ভাতা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি অন্তত ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
তাদের দাবি, গত এক বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের ঘুরিয়ে আসছেন জাকিয়া সুলতানা। প্রতিশ্রুত সুবিধা না পেয়ে এবং টাকা ফেরত চাইলে তিনি টালবাহানা শুরু করেন।
সম্প্রতি টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরে তারা একযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে জসিম মিয়া বলেন, গভীর নলকূপ স্থাপন করে দেওয়ার কথা বলে জাকিয়া সুলতানা আমার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এক বছর পার হলেও নলকূপ পাইনি।
তিনি আরও বলেন, এখন টাকা চাইলে নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।
রুস্তুম মৃধা, ফিরোজা বেগম, নুরজাহান বেগম ও মাহফুজা বেগম জানান, গভীর নলকূপ বসিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো নলকূপ দেওয়া হয়নি এবং টাকা ফেরতও দেওয়া হচ্ছে না।
পরিভানু, রোজিনা ও শাহিনুর বেগম বলেন, ভিজিএফ কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমাদের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। আমরা দরিদ্র মানুষ, কষ্ট করে টাকা দিয়েছি। এখন কার্ডও পাইনি, টাকাও ফেরত পাচ্ছি না।
মাহিয়া বেগম নামে আরেকজন অভিযোগ করেবলেন, ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। ঋণ করে টাকা দিয়েছি। এখন না কার্ড পাচ্ছি, না টাকা।
এ বিষয়ে জানতে জাকিয়া সুলতানার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বন্ধ পাওয়া যায়।
আমতলী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাঞ্জুরুল হক কাওসার বলেন, জাকিয়া সুলতানা নামে কোনো নারী অতীতে বা বর্তমানে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন না।
তিনি সমাজসেবা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে থাকলে সেটি সম্পূর্ণ বেআইনি। এমন কাউকে পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয় জানতে চাইলে আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবু শাহাদাৎ হাচনাইন পারভেজ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযুক্ত নারী বর্তমানে এলাকায় অবস্থান করছেন না বলে জানা গেছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।