হাসপাতালে কুকুরের বিচরণের দৃশ্য।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, যেখানে প্রতিটা মুহূর্ত জীবন-মরণের লড়াই চলে। অথচ সেই সংবেদনশীল জায়গাতেই অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে ভবঘুরে কুকুর! এমন ভুতুড়ে ও ঝুঁকিপূর্ণ চিত্র দেখা গেছে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। এ ঘটনায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
আরও পড়ুন: সখিপুরে কুকুরের কামড়ে আহত ৫৪ |
বুধবার (৩ জুন) দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মধ্যে একটি বড় কুকুরকে দীর্ঘক্ষণ ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। উপস্থিত অনেকেই অভিযোগ করেন, হাসপাতালের ভেতরে এমন দৃশ্য নতুন কিছু নয়। প্রায়ই কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণী হাসপাতাল চত্বরে, এমনকি ওয়ার্ডের ভেতরেও ঢুকে পড়ে।
জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের মধ্যে কুকুর ঘুরে বেড়ানো খুবই দুঃখজনক। এখানে নানা ধরনের গুরুতর রোগী আসে। কুকুর যদি হঠাৎ কাউকে কামড়ে দেয় বা রোগীর বেডের পাশে চলে যায়, তবে তো বড় দুর্ঘটনা ঘটে যাবে। এসব দেখার কি কেউ নেই?
এদিকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গণঅধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক ও কিশোরগঞ্জ জেলার সিনিয়র সহসভাপতি আকন্দ মুহাম্মদ উজ্জ্বল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি নিজেই কুকুরের ছবি তুলেছি। শুধু কুকুরই না, হাসপাতালের স্টাফরা যেখানে-সেখানে থুতু ফেলছেন। পুরো হাসপাতালে মারাত্মক অব্যবস্থাপনা আর দুর্গন্ধ। এখানে চিকিৎসা নেওয়ার মতো কোনো পরিবেশ নেই। জেলা সদরের একটি হাসপাতালের পরিবেশ এমন হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক হাসপাতালের ভেতরে কুকুরের বিচরণ ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (তত্ত্বাবধায়ক ভারপ্রাপ্ত) ডা. নূর মো. শামসুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি উল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের বলেন গিয়া যে কুকুর কিছু মেরে ফেলেন। এইটার দায়িত্ব তো আমার না। এইটার দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের, ডিসির আর পুলিশের। শুধু কুকুর থাকে না; কুত্তা, বিলাই, গরু, চোর, দালাল সব থাকে! কুকুরের রোগীর জন্য সরকার ভ্যাকসিন দিতে পারতাছে না। আমরা অনেক কষ্টে কিছু ভ্যাকসিন এনে মানুষকে দিচ্ছি। আপনি কালকে ১২টার সময় আসেন, আপনাকে কী কী সমস্যা সব বুঝিয়ে দেবনে।
হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের বিপরীতে ভিন্ন কথা জানালেন কিশোরগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. নাজমুল করিম। ভ্যাকসিনের কোনো স্বল্পতা নেই দাবি করে তিনি বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে। আর কুকুর যাতে হাসপাতালের মধ্যে প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য সেখানকার স্টাফদের কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে বলেছি, কারণ সেখানে শিশুসহ অনেক মানুষ আসে।
কুকুর নিধনের আইনি নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে সিভিল সার্জন আরও বলেন, কুকুর তো আসলে মারা যায় না, আইনত সেই সুযোগ নেই। আমরা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলে কুকুরগুলোকে ভ্যাক্সিনেশনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করব, যাতে কামড় দিলেও জলাতঙ্ক না ছড়ায়।
একটি সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মধ্যে এমন পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্য ও সেবার মানের পরিপন্থী বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। রোগীদের নিরাপত্তা ও হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।