বরিশালে ১৮ বছর ধরে পড়ে আছে বরিশাল মৎস্য অবতরণ ও পাইকারি মৎস্য বাজার কেন্দ্রটি। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালীদের যোগসাজশের কারণেই বন্ধ এটি। মৎস্য ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সরকারি অবতরণ কেন্দ্রটিতে জায়গা সংকটসহ পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। তবে দ্রুত অবতরণ কেন্দ্রটি সচল করার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।
এক সময় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে মৎস্য অবতরণ ও পাইকারি মৎস্য বাজার কেন্দ্রটি সরগরম থাকলেও এখন তা শুধুই স্মৃতি। কালের পরিক্রমায় মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন বরিশাল মৎস্য অবতরণ ও পাইকারি মৎস্য বাজার কেন্দ্রটি পড়ে আছে অব্যবহৃত অবস্থায়। তবে গেটের সামনে শোভা পাচ্ছে কেন্দ্রের সাইনবোর্ড।
জানা গেছে, ১৯৮৫-৮৬ অর্থবছরে নগরীর বান্দরোডে নির্মাণ করা হয় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি। এরপর টানা ২১ বছর পর ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে কেন্দ্রটি সচল হলেও ২ বছর পর হঠাৎ আবার বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালের দিকে দুটি টাইলস কোম্পানির গোডাউন হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয় অবতরণ কেন্দ্রটি। তবে চলতি বছর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন করে চুক্তি না করে চলে যান তারা। ২০০৭ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত দুই বছরে বরিশাল মৎস্য অবতরণ ও পাইকারি মৎস্য বাজার কেন্দ্রটি থেকে মোট ৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়।
স্থানীয়রা জানান, প্রভাবশালীদের যোগসাজশে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ার পর বেশিরভাগ জিনিসপত্র খোয়া যায়। লোক সমাগম কম থাকায় বসে মাদকের আড্ডা। এ ছাড়া সুযোগ বুঝে কেন্দ্রটির বেশকিছু অংশ দখলও হয়েছে।
অবতরণ কেন্দ্রটির সাবেক শ্রমিক সালাম জানান, যখন অবতরণ কেন্দ্রটি চালু হয় তখন আমাদের ভালো আয় রোজগার ছিল। তবে এখন কাজ নেই। ফলে অন্য কাজ করে সংসার চালাচ্ছি। যদি আবারও অবতরণ কেন্দ্রটি চালু হয় তাহলে আমাদের খুবই ভালো হবে।
রহমান নামে আরেকজন জানান, অবতরণ কেন্দ্রটি চালু হবে পোর্টরোড এলাকার যানজট কমে যাবে। এখানে ট্রাক পার্ক করার ব্যবস্থা থাকার পাশাপাশি সব সুযোগ-সুবিধা থাকলেও কেন বন্দরটি চালু হচ্ছে না, বুঝি না।
আনিস নামে এক ট্রাকচালক জানান, এখানে ট্রাক পার্কিংয়ের জায়গা থাকার ফলে মাঝেমধ্যে এখানে এসে পার্কিং করি। তবে চোরের আস্তানা এলাকাটিতে। ট্রাকের ব্যাটারিসহ নানা জিনিসপত্র চুরি হয়েছে অনেকের। এমনকি মাদকসেবীরাও এখানে মাদকের আড্ডা দেয়। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিত।
মৎস্য ব্যবসায়ী আবুল কালাম আযাদ জানান, কিছু অসুবিধার কারণে আমরা মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন বরিশাল মৎস্য অবতরণ ও পাইকারি মৎস্য বাজার কেন্দ্রটিতে যাচ্ছি না। সবচেয়ে বড় সমস্যা সেখানে ব্যাংক লেনদেনের সহজ কোনো উপায় নেই। আশপাশে কোটি টাকা লেনদেনের ব্যাংক নেই। এ ছাড়া যেমন আছে জায়গা সংকট যেমনই আছে পর্যাপ্ত বরফ কলের অভাব। এ ছাড়া মাছ লোড আনলোডের জন্য পর্যাপ্ত ঘাট নেই।
মৎস্য লাইনম্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির জানান, পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় সেখানে যাওয়াটা অসম্ভব। ফলে পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটিতেই মাছের ব্যবসা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
এদিকে মৎস্য ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত অবতরণ কেন্দ্রটি সচল করার কথা জানান বরিশাল মৎস্য অবতরণ ও পাইকারি মৎস্য বাজার কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লে. কমান্ডার জিএম মাসুদ শিকদার। তিনি আরও জানান, এরই মধ্যে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি। রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগের বিষয়েও জানিয়েছি।