ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬ ২১:২৮ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধে হওয়ায় দশ সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিবাদ। ছবি: নির্মাতার ফেসবুক থেকে নেওয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমার প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় দশ সাংস্কৃতিক সংগঠন।
এক যৌথ বিবৃতিতে সোমবার এ ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনগুলো।
বিবৃতিতে সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে গত ৩০ মে অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে নির্মাতা তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্রের একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে এ আয়োজন করা হলেও একটি মহল ধর্মীয় আবেগের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলচ্চিত্রটির বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভেন্যু কর্তৃপক্ষ পূর্বের অনুমতি প্রত্যাহার করলে প্রদর্শনী স্থগিত হয়ে যায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একই দিনে কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে স্থানীয় তরুণরা চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের উদ্যোগ নিলে স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেই আয়োজনও বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুটি ঘটনাকেই সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন সংগঠনগুলোর নেতারা।
তারা বলেন, ওস্তাদ আলাউদ্দীন খাঁ, কবি আল মাহমুদসহ অসংখ্য গুণীজনের স্মৃতিবিজড়িত ব্রাহ্মণবাড়িয়া দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত। এমন একটি জেলায় সরকার অনুমোদিত একটি চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী বন্ধ হয়ে যাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
নেতারা উল্লেখ করেন, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী প্রদর্শনের অনুমতি পেয়েছে এবং ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে বিভিন্ন স্থানে প্রশংসিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটির নির্মাতা তানিম নূরও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সন্তান। নিজের জেলায় তার নির্মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের সুযোগ না পাওয়া হতাশাজনক বলে মন্তব্য করা হয় বিবৃতিতে।
বিবৃতিদাতারা বলেন, চলচ্চিত্র একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্পমাধ্যম, যা সমাজ, রাষ্ট্র, মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সমসাময়িক বাস্তবতাকে মানুষের সামনে তুলে ধরে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়েই চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হচ্ছে। ফলে প্রদর্শনীতে বাধা সৃষ্টি করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিপন্থি।
তারা আরও বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা থাকা জরুরি। কোনো গোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক আচরণ, অসহনশীলতা ও উগ্রতার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতি দাতাদের মধ্যে রয়েছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া অনুশীলন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আহ্বায়ক আবদুন নূর, সদস্যসচিব নাসির মিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া খেলাঘরের সাধারণ সম্পাদক নীহার রঞ্জন সরকার, উদীচী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংসদের সভাপতি জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস রহমান, জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মানবর্দ্ধন পাল ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মাসুদ-উর-রহমান।
এ ছাড়া বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি শোভা সেন, সাধারণ সম্পাদক সাথী চৌধুরী, ‘আবরণী’ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিচালক হাবিবুর রহমান পারভেজ, সহকারী পরিচালক শারমিন সুলতানা, ‘কবির কলম’ এর সভাপতি হুমায়ুন কবির, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন শিপন, ‘চারণ’ সংগঠনের প্রেমানন্দ দাস, ‘সোনালি সকাল’ এর সভাপতি ফাহিম মুনতাসির, সাধারণ সম্পাদক সানিউর রহমান, ‘আজকের সংস্কৃতি সংগঠন’ এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সভাপতি মুস্তাফা জাফরি হামিম ও সাধারণ সম্পাদক সর্পা মিত্র ভৌমিকও বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন।