পাটগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬ ২০:২০ পিএম
রাশিয়ায় গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে থাকা লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ৪ যুবককে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তাদের স্বজনরা।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে পাটগ্রাম উপজেলা
পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে স্বজনরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছেন।
ভুক্তভোগী ৪ যুবক হলেন- টেপুরগাড়ি এলাকার দেলদার রহমানের
ছেলে নাজমুল হক সৌরভ (২১), একই এলাকার রাবিউল ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান (২১), সর্দারপাড়া
এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে আল আমিন (২০) এবং আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল-মামুন
(২২)।
পরিবারগুলোর অভিযোগ, পাটগ্রাম ইউনিয়নের
রহমানপুর গ্রামের ইউনুস আলী ও মাহিন ইসলাম উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চার যুবককে
রাশিয়ায় পাঠান। এজন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়। পরে
গত ৮ মে বাহরাইন হয়ে তাদের রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে পাঠানো হয়।
স্বজনদের দাবি, মস্কো পৌঁছানোর পর প্রথমদিকে
যুবকরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে অন্য একটি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তারা পরিবারকে
জানান, প্রতারণার মাধ্যমে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তারা
জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এ ঘটনায় ইউনুস আলীসহ কয়েকজনকে আসামি
করে পাটগ্রাম থানায় পৃথক মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
অবস্থান কর্মসূচিতে তাদের স্বজনরা বলেন,
‘আমাদের সন্তানদের যেকোনো মূল্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে। তারা প্রতারণার শিকার হয়েছে।
আমরা সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাটগ্রাম
উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মনোয়ার হোসেন লিটন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ঘটনার সঙ্গে
সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় ইউনুস আলীকে উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি এবং মাহিন ইসলামকে
পৌর কমিটির পদ থেকে গত ১৮ মে দলের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৪ যুবক বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসার মাধ্যমে
রাশিয়ায় গেছেন। তবে সেখানে গিয়ে চুক্তি অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে প্রতারণার শিকার হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান তাদেরসহ প্রায় ৩০ জন বাংলাদেশিকে রুশ সেনাবাহিনীর
কাছে হস্তান্তর করেছে।
জামায়াত দাবি করে, এ ঘটনার সঙ্গে দলগতভাবে
তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে জড়িত থাকলে তার দায় দল নেবে না। একই
সঙ্গে রাশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে রুশ দূতাবাস, বাংলাদেশ
হাইকমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ
গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও আলোচনা-সমালোচনার
সৃষ্টি হয়েছে।