শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬ ১৯:৪৬ পিএম
গাজীপুরের শ্রীপুরে ব্যবসায়ীর স্ত্রীর সঙ্গে জামায়াত ইসলামীর সাবেক নেতা মোবারক হোসেন শ্যামলের বিরুদ্ধে পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় শ্রীপুর পৌরসভার লিচু বাগান (দোখলা) এলাকায় সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ফার্নিচার ব্যবসায়ী মোস্তফা মৃধা এ অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত মোবারক হোসেন শ্যামল শ্রীপুর পৌরসভা জামায়াত ইসলামীর সাবেক সভাপতি এবং পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকার মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ী মোস্তফা মৃধা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন শ্রীপুর পৌরসভা জামায়াত ইসলামীর সাবেক সভাপতি মোবারক হোসেন শ্যামল। ঘটনা টের পেয়ে তিনি শ্যামলকে তার বাড়িতে আসতে নিষেধ করেন। রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট খাটিয়ে সে আমার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া ও অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। ধর্মীয় একটি রাজনৈতিক দলের সাবেক এই নেতার অনৈতিক আচরণে আমার সাজানো সংসার ধ্বংস হচ্ছে। স্বামী হিসেবে আমি এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে মোবারক হোসেন শ্যামল তার লোকজন নিয়ে আমার ওপর চড়াও হন। এরই জেরে গত ২৫ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে আমার মাথায় ও বুকে আঘাত করে আহত করে। পরে আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন ছিলাম। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ক্ষমতার দাপটে মোবারক হোসেন শ্যামল আমাকে এবং আমার পরিবারকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তার হুমকিতে আমি আমার নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও যেতে পারছি না। একটি পরিবার ধ্বংস ও আমাকে হত্যার চেষ্টার অপরাধে প্রশাসন ও তার রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে শ্যামলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
অভিযুক্ত মোবারক হোসেন শ্যামল মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের বলেন, তার (মোস্তফার) স্ত্রী আমার মেয়ের মতো। তার সঙ্গে আমার ব্যবসায়িক লেনদেন রয়েছে। আগামী ১৫ জুন সে আমার পাওনা ৮ লাখ টাকা আমাকে দেবে। এই টাকা না দেওয়ার জন্য সে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
শ্রীপুর পৌরসভা জামায়াত ইসলামীর সাবেক সভাপতি ডা. আনিসুজ্জামান বলেন, মোবারক হোসেন শ্যামল অনেক দিন আগে জামায়াত ইসলামীর রোকন ছিল। পরে সে ইচ্ছাকৃতভাবে দলীয় সব পদ থেকে ইস্তফা নিয়ে চলে গেছেন। এখন সে জামায়াত ইসলামীর দলীয় কোনো কার্যক্রমে নেই এবং অংশগ্রহণ করেন না।