শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬ ১৭:৪১ পিএম
সুন্দরবন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবনে সাত জেলেকে অপহরণ করেছে ‘বনদস্যু’রা।
সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়ে ও সুবদে খাল এলাকা থেকে ‘বনদস্যু’রা নিজেদের ‘নানা ভাই ডন বাহিনী’ পরিচয় দিয়ে রাত ১১টার দিকে ওই জেলেদের তুলে নিয়ে যায়। এ সময় দস্যুদের হামলায় ইসমাইল খাঁ নামের এক জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার বিকালের মধ্যে মুক্তিপণের টাকা না পাঠালে অপহৃতদের হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে দস্যু বাহিনী।
আহত জেলে ইসমাইল খাঁ বর্তমানে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তিনি জানান, রাতে নৌকায় ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ দস্যুরা হামলা চালায়। আকস্মিক চিৎকারে ঘুম ভাঙলে তিনি বাঘের আক্রমণ মনে করে আত্মরক্ষার্থে পাশে থাকা দা হাতে নেন। এসময় দস্যুরা নৌকার বৈঠা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে তিনি রক্তাক্ত জখম হন। দস্যুরা তার নৌকা থেকে দুজনকে অপহরণ করে এবং মাথাপিছু ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
অপহৃত জেলেরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের ইয়াসিন খাঁ (৩২), আলমগীর খাঁ (৩৮), ইসমাইল খাঁ (৪০), হরিনগর গ্রামের আলামিন মোল্লা (৩৫), শাহাজান গাজী (৪৮), কামরুল গাজী (৪৪) এবং কয়রার মহেশ্বরীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৪৮)।
অপহৃতদের স্বজনরা জানান, বনবিভাগের কদমতলা স্টেশন থেকে কাঁকড়া ধরার অনুমতি (পাস) নিয়ে পাঁচটি নৌকায় মোট ১৮ জন জেলে সুন্দরবনে গিয়েছিলেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার সকালে তাদের লোকালয়ে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ফেরার আগের রাতেই মালঞ্চ নদীর সংযোগ খালগুলো থেকে তাদের অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়।
সুন্দরবনের কদমতলা স্টেশন কর্মকর্তা মনিরুল করিম জানান, জেলে অপহরণের বিষয়টি তার জানা নেই।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।