প্রতীকী ছবি।
রংপুরের মিঠাপুকুরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও বিষাক্ত অ্যালকোহল (মদ) পানে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উপজেলার ৫ নম্বর বালারহাট ইউনিয়নের বাজার এলাকায় রবিবার রাতে মদ পান করেন তারা। এরপর ওই রাতেই দুজন এবং সোমবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান।
নিহতরা হলেন, উপজেলার কাফ্রীখাল ইউনিয়নের সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে ছাত্তার মিয়া (৫০), একই ইউনিয়নের বুজরুক ঝালাই গ্রামের মৃত মতিয়ার মিয়ার ছেলে হুজুর আলী (৪৫) এবং সংগ্রামপুর বেলতলা গ্রামের মৃত কফুর উদ্দিনের ছেলে মো. সাজু মিয়া (৫৫)।
এ ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন বুজরুক ঝালাই পাকারমাথা এলাকার মৃত সুলতান আলীর ছেলে মো. এরশাদ মিয়া (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে বালারহাট বাজারে ওই চার ব্যক্তি একসঙ্গে নিষিদ্ধ অ্যালকোহল পান করেন। পরে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষক্রিয়া ছড়িয়ে পড়লে রাতেই ছাত্তার মিয়া এবং পরে হুজুর আলী নিজ বাড়িতে মারা যান। অপর দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সোমবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাজু মিয়ারও মৃত্যু হয়। চিকিৎসাধীন অপরজনের অবস্থাও সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
বালারহাট ইউপি সদস্য মো. মাইদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মদ্যপানের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন করতে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি গোপন করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং মিঠাপুকুর থানার ওসি (তদন্ত) দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষাক্ত মদ পানে দুজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরে জানতে পারলাম আরও একজন মারা গেছে। ময়নাতদন্ত ছাড়া মরদেহ দাফনের কোনও সুযোগ নেই। আইনি প্রক্রিয়া মেনে মরদেহগুলোর সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করা হবে। এই এলাকায় এ ধরনের অবৈধ ও বিষাক্ত অ্যালকোহল বিক্রির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এবং নিয়মিত মামলায় কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।
মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এরশাদ শিকদার জানান, বিষাক্ত মদ পানের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের তদন্ত চলমান। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।