তবে অনুষ্ঠান শেষে বাড়ির সামনে রাখা কয়েকটি মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে বলাকে কেন্দ্র করে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন সেলিম খানের পরিবার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কিশোরগঞ্জে বৌভাত অনুষ্ঠান শেষে মাদকবিরোধী অবস্থানকে কেন্দ্র করে গণঅধিকার পরিষদের এক নেতার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল গ্রামে রবিবার সন্ধ্যায় সেলিম খানের বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
সেলিম খান মৃত মোহাম্মদ রইস উদ্দিন খানের ছেলে এবং কর্শাকড়িয়াইল ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক।
আহতরা হলেন সেলিম খান (৩০), আসাদ খান (৩৬) ও মো. মোশাররফ মিয়া (১৫)। তাদের মধ্যে আসাদ খান ও মোশাররফ মিয়াকে শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে স্থানীয় বাসিন্দা রাজু মিয়ার ওপরও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও সেলিম খানের পরিবার জানান, রবিবার সন্ধ্যার দিকে সেলিম খানের বাড়িতে তিনশো অতিথির উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে বৌভাতের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
তবে অনুষ্ঠান শেষে বাড়ির সামনে রাখা কয়েকটি মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে বলাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন যুবকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয় বলে অভিয়োগ করেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, এর কিছুক্ষণ পর দেশীয় অস্ত্রসজ্জিত একদল ব্যক্তি সেলিম খানের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
একই সঙ্গে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণের চেইন ও আংটিসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন সেলিমের পরিবারের সদস্যরা।
সেলিম খানের বোন মদিনা বলেন, মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে বলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তারা আরও লোকজন নিয়ে এসে আমাদের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সোহেল জানান, অনুষ্ঠান শেষে কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেল রেখে পাশের এলাকায় যায়। এ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে পরে হামলার ঘটনা ঘটে।
তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুরের চিত্র দেখেছেন বলেও জানান।
আমি শুধু বাড়ির সামনে থেকে মোটরসাইকেল সরিয়ে রাখতে বলেছিলাম উল্লেখ করে সেলিম খান অভিয়োগ করেন, এর জের ধরে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়। পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও ব্যবসার বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার ছিলেন। সেই কারণেই পরিকল্পিতভাবে তাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।