কিশোরগঞ্জ
বিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬ ২১:০০ পিএম
আপডেট : ৩১ মে ২০২৬ ২১:০১ পিএম
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সম্মানজনক সাক্ষাৎ, ফুলেল শুভেচ্ছা, উন্নত খাবার, আর সহমর্মিতার আবহে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দিদের জন্য আয়োজন করা হয় হৃদয়ছোঁয়া ঈদ।
‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’-এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে কারাগারে উৎসবমুখর, মানবিক ও সহমর্মিতায় পরিপূর্ণ পরিবেশে উদ্যাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা।
আইজি প্রিজন্স ও ডিআইজির (প্রিজন্স) নির্দেশনায় জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. দিদারুল আলম এবং জেলার ফারজানা আক্তারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে বন্দিদের মানসিক পুনর্বাসন, কল্যাণ ও মানবিক বিকাশে নেওয়া হয় একাধিক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ।
ঈদের সকালেই কারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্দিদের ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের নিঃসঙ্গতা আর প্রিয়জন থেকে বিচ্ছিন্ন জীবনের মাঝে এই সামান্য ভালোবাসার স্পর্শ যেন তাদের চোখে-মুখে ফিরিয়ে আনে ঈদের আনন্দের উজ্জ্বলতা। পরে তাদের জন্য পরিবেশন করা হয় পায়েস, নুডুলস, গরুর মাংসসহ উন্নতমানের খাবার।
কারা প্রশাসনের আন্তরিক আপ্যায়ন ও যত্নশীল পরিবেশনায় বন্দিদের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে এক অনন্য আবেগঘন আবহে।
পরিবেশিত খাবারের মান, পরিবেশনের শৃঙ্খলা এবং পুরো আয়োজনের সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবস্থাপনা কারাগারের কঠোর দেয়ালের ভেতরেও সৃষ্টি করে এক উষ্ণ, আপন ও উৎসবমুখর পরিবেশ; যেখানে কিছুক্ষণের জন্য হলেও বন্দিরা অনুভব করেছেন পরিবার ও সমাজের ভালোবাসার ছোঁয়া।
শুধু বন্দিদের জন্যই নয়, ঈদ উপলক্ষে সাক্ষাৎ করতে আসা স্বজনদের প্রতিও দেখানো হয় অসাধারণ সম্মান, সৌজন্য ও আন্তরিকতা। কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখেও কারা চত্বরে ছিল মানবিকতার উজ্জ্বল উপস্থিতি। স্বজনদের আনা খাবার যথাযথ মর্যাদা ও যত্নের সঙ্গে বন্দিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই নির্বিঘ্নে প্রিয়জনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
বন্দিদের একাধিক স্বজন জানান, বর্তমান কারা প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা, সম্মানজনক ব্যবহার এবং সুশৃঙ্খল সাক্ষাৎ ব্যবস্থাপনা তাদের গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে।
তাদের ভাষায়, “অতীতে এমন মানবিক, পরিচ্ছন্ন ও সম্মানজনক আয়োজন খুব কমই দেখা গেছে। আজ মনে হয়েছে-কারাগারের ভেতরেও মানুষকে মানুষ হিসেবেই মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে।”
কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেলার ফারজানা আক্তার বলেন, “কারাগার শুধু শাস্তি কার্যকরের স্থান নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, অনুশোচনা এবং নতুন জীবনের পথে ফিরে আসার এক মহৎ সংশোধনাগার। আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিটি মানুষ পরিবর্তনের সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখে। দায়িত্বশীল, সহানুভূতিশীল ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে বন্দিদের আত্মবিশ্বাস ও আত্মোপলব্ধি জাগ্রত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
জেল সুপার মো. দিদারুল আলম বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহার এই দিনে ফুলেল শুভেচ্ছা ও বিশেষ খাবারের মাধ্যমে আমরা বন্দিদের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চেয়েছি-সমাজ তাদের ভুলে যায়নি। ভালোবাসা, সম্মান ও মানবিক স্পর্শই পারে একজন মানুষকে নতুনভাবে বাঁচার অনুপ্রেরণা দিতে। একইসঙ্গে স্বজনদের জন্যও একটি মর্যাদাপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন সাক্ষাৎ পরিবেশ নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের অঙ্গীকার।”