কুমিল্লা অফিস
প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬ ১৯:৪০ পিএম
আসিফ-হাসনাত ও কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসক। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ দুই নেতা আসিফ মাহমুদ ও হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘প্রকল্পের নামে’ জেলা পরিষদের তহবিল থেকে মোট ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া। সংবাদ ও সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হলেও এবার প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেছেন, “ওরা যে টাকাটা নিয়েছে, পারলে বলুক নেয় নাই”।
গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রবিবার তিনি নিজের আগের বক্তব্যের স্বপক্ষে এই ব্যাখ্যা ও সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের খতিয়ান তুলে ধরেন।
মোস্তাক মিয়া বলেন, “কোনো সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মুরাদনগর উপজেলার জন্য প্রকল্পের নামে ১৫ কোটি টাকা এবং দেবীদ্বার উপজেলার জন্য ১০ কোটি টাকা উনারা নিয়ে গিয়েছেন। অথচ একই সময়ে কুমিল্লার অন্যান্য উপজেলাগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ লাখ, ১৫ লাখ বা ১৮ লাখ টাকা; সর্বোচ্চ কোথাও ২৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছ”।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের জেলা পরিষদের নিজস্ব তহবিল এবং এডিপির টাকা এভাবে দুটি উপজেলায় কোটি কোটি টাকা বণ্টন করা আর বাকি উপজেলাগুলোকে বঞ্চিত করা উনাদের ঘোষিত ‘বৈষম্যহীন সমাজ’ নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। উনারাই মূলত ক্ষমতার অপব্যবহার করে জেলা জুড়ে নতুন করে এই অর্থনৈতিক বৈষম্যের সৃষ্টি করেছেন”।
তবে এসময় মোস্তাক মিয়া কিছুটা সুর নরম করে নিজের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেন, “টাকাটা উনারা পকেটে ঢুকিয়েছেন বা ব্যক্তিগতভাবে খেয়ে ফেলেছেন, আমি কিন্তু সেটা বলিনি। আমি বলেছি, প্রকল্পের আড়ালে উনারা প্রভাব খাটিয়ে নিজেদের পছন্দের দুটি উপজেলার জন্য ২৫ কোটি টাকার মেগা বরাদ্দ ভাগিয়ে নিয়েছেন, যেখানে তিতাস ও মনোহরগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী অন্য উপজেলাগুলো সামান্য বরাদ্দের জন্য হাহাকার করছে।
“আমি কেবল এই পদ্ধতিগত বৈষম্যের কথাই জনগণের সামনে বলতে চেয়েছি। তারা যদি সততার দাবিদার হন, তবে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বলুক যে জেলা পরিষদের মাধ্যমে উনারা এই বরাদ্দ নেননি”।