প্রতিবন্ধী ওই নারীকে নির্যাতনের ঘটনায় শনিবার কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের বড়ভাগ মধ্যপাড়া এলাকায় এক বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী নারীকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে নির্যাতন, ধর্ষণচেষ্টা এবং চুরির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শনিবার ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ মে গভীর রাতে স্থানীয় বাসিন্দা রনি মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে ওই নারীর ঘরে প্রবেশ করে। ওই নারী একজন এতিম এবং বাক-শ্রবণপ্রতিবন্ধী। তিনি একা একটি টিনের ঘরে বসবাস করতেন।
পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত রনি মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ঘটনার রাতে জানালার কাঠ খুলে ঘরে প্রবেশ করে তিনি ওই নারীর হাত, পা ও মুখ বেঁধে ফেলেন এবং জোরপূর্বক নির্যাতনের চেষ্টা করেন।
এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই নারীর গোঙানির শব্দ শুনে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায় বলেও দাবি করে পরিবার।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পালানোর সময় ঘর থেকে নগদ অর্থ, রূপার গহনা, নূপুরসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগীকে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেন। তিনি ইশারার মাধ্যমে ঘটনার বর্ণনা দেন।
ওই নারীর চাচা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে রনি মিয়াকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে বিচার চাওয়া হলেও বিষয়টি দীর্ঘদিন মীমাংসার নামে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এমনকি ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে। মামলা করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে তারা দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগীর চাচাতো ভাই জানান, ঘটনার পর তারা মেয়েটিকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেন। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন, ছেঁড়া পোশাক ও এলোমেলো চুল ছিল। তিনি ইশারায় রনি মিয়ার নাম উল্লেখ করেন। তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ওই নারী অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় চলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
তবে অভিযুক্ত রনি মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।