সুফল চাকমা, বান্দরবান
প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬ ১৯:৩১ পিএম
জেলাপ্রশাসন পরিচালিত নীলাচল পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের পদচারণা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত অপরুপা বান্দরবান। প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের ভিড় দেখা গেলেও এবার ঈদুল আযহার ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রত্যাশিত পর্যটকদের সমাগম ঘটেনি।
ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার জেলা সদরের, নীলাচল, মেঘলা, শৈলপ্রপাত ও রুপালি ঝরনা ঘুরে দেখা যায়, পর্যটকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। অন্যান্য বছরের এই মৌসুমে যেখানে পর্যটকদের ভিড়ে মুখর থাকত এসব এলাকা, সেখানে এবার তেমন ভিড় চোখে পড়েনি।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদ উপলক্ষে পর্যটকদের আগমনের আশায় হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও কটেজগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। জেলা সদরের দুই-একটি হোটেলে পর্যাপ্ত বুকিং থাকলেও অধিকাংশ হোটেল ৫০-৬০ শতাংশ বুকিং পেয়েছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী বুকিং না হওয়ায় অনেক রুম এখনও খালি রয়েছে।
হোটেল মালিকরা জানান, গত বছরের এই দিনে ঈদের ছুটিতে রুম পাওয়া ছিল দুষ্কর। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। পর্যটকের সংখ্যা কম থাকায় আবাসন খাতের পাশাপাশি পরিবহন, রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও প্রভাবিত হচ্ছেন।
সম্প্রতি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসন থেকে জারি করা বিধিনিষেধ ও ঈদ পরবর্তী ছুটি কম থাকায় ভ্রমণপ্রেমী বান্দরবানমুখী কম হয়েছেন।
এছাড়া বান্দরবানের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়, ঝর্ণা ও সবুজ প্রকৃতি এখনও দেশের অন্যতম আকর্ষণ। তাই পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী দিনগুলোতে পর্যটকদের পদচারণায় আবারও পার্বত্য এই জেলা মুখর হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার জেলার দেবতাখুম পর্যটন কেন্দ্রে ৮ শত পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। গত ঈদের ছুটিতে প্রায় ২ হাজার পর্যটক ভ্রমণ করেছিলেন।
থানচিতে গত ঈদে ২ হাজারেরও বেশি ভ্রমণ করলেও এবার মাত্র ৪ শত পর্যটক ভ্রমণ করেছেন।
তবে রুমাতে এবার দুই থেকে আড়াই হাজার পর্যটকের আগমন ঘটেছে, যা গত ঈদেও এরুপ পর্যটকের আগমন ঘটেছিল।
এছাড়া বান্দরবান সদরের নীলাচলে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ১৮ শত ও মেঘলাতে ১৪শ পর্যটকের আগমন ঘটেছে।যা গত বছরের তুলনায় কম।
হোটেল হিলভিউ এর ফ্রন্ট ডেক্স ম্যানেজার মো.ইউনুছ বলেন, আজ ও আগামীকাল তাদের হোটেলে প্রায় শতভাগ বুকিং রয়েছে।
হোটেল হিল্টনের ফ্রন্টডেক্স ম্যানেজার তপন বড়ুয়া বলেন, আজ তাদের হোটেলে ৬০ শতাংশ ও আগামী কালের জন্য ৪০ শতাংশ বুকিং রয়েছে।গত বছরের তুলনায় যা খুবই কম।অন্যান্য বার যেখানে রুম দিতে হিমসিম খেতে হয়েছিল এবার অনেকটাই ফাঁকা রয়েছে।
রোয়াংছড়ি পর্যটক গাইড সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিংনু মং মারমা বলেন দেবতাখুমে অন্যান্য ঈদের তুলনায় এবারের ঈদের ছুটিতে পর্যটকের সমাগম কম হয়েছে। আজ সারাদিন মাত্র ৭শত পর্যটকের আগমন ঘটেছে বলে জানান তিনি।
রুমা পর্যটক গাইড সমিতির সভাপতি লাল রুকুয়াল বম বলেন, গত ঈদের মত এবারও দুই থেকে আড়াই হাজার পর্যটক বগালেক, কেওক্রাঢং ভ্রমণ করেছেন। থানচি পর্যটক গাইড অফিসের সহকারী উত্তম ত্রিপুরা বলেন, আজ থানচিতে মাত্র ৪০০ পর্যটক ভ্রমণ করেছেন।গত ঈদে যা ছিল প্রায় ২ হাজার।
বান্দরবান হোটেল মোটেল রিসোর্ট ওনার্স আ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, পর্যটকদের জন্য বান্দরবান ভ্রমণ ব্যয়বহুল হওয়ার কারনে বান্দরবানে আশানুরূপ পর্যটকের আগমন ঘটেনি।
তাই দীর্ঘ ঈদের ছুটির মধ্যেও বান্দরবানের অধিকাংশ হোটেল মোটেল, রিসোর্টের অর্ধেকের বেশী রুম খালি পড়ে আছে বলে জানান তিনি।
বান্দরবান ট্যুরিস্ট পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো.মাহাবুবুর রহমান বলেন, আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশও কাজ করছে।দুইটি ভ্রাম্যমান টিমের পাশাপাশি সাদা পোষাকেও পুলিশ কাজ করছে।তবে এখনো পর্যন্ত কোন প্রাকার অপ্রিতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।