শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর বাজারের ডাকবাংলোর সামনে খোলপেটুয়া নদীর পাড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা চামড়া। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানিকৃত পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সাধারণ মানুষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
ক্রেতা না থাকায় অনেকেই চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলছেন, আবার কেউ নদী কিংবা নদীর পাড়ে ফেলে দিচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এমন চিত্র দেখা গেছে।
উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর বাজার এলাকায় ডাকবাংলোর সামনে খোলপেটুয়া নদীর পাড়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় বেশ কিছু চামড়া।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এতিমখানা-মাদরাসা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদের দিন সকাল থেকেই তারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন। তবে দিনভর ঘুরেও আশানুরূপ ক্রেতা না পাওয়ায় অধিকাংশ চামড়া অবিক্রিত থেকে যায়।
তাদের অভিযোগ, গরু, ছাগল ও খাসির চামড়ার কোনো কার্যকর বাজার না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে চামড়া ফেলে দিচ্ছেন কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলছেন।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চামড়ার বাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ। আড়তদাররা কম দামে চামড়া কিনতে চাইলেও পরিবহন ব্যয় ও লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কায় চামড়া কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে সাধারণ মানুষ চরম হতাশায় পড়েছেন।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট জামে মসজিদের ইমাম ও বাগে জান্নাত হাফিজিয়া মাদ্রাসার খতিব হাফেজ রেজাউল করিম বলেন, সারাদিন ও সারারাত অপেক্ষা করেও কেউ চামড়া নিতে আসেনি। পরে দুর্গন্ধ ছড়ানোর ভয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে।
গাবুরা চাঁদনীমুখা মাদরাসার সভাপতি মো. আবুও একই ধরনের অভিযোগ করেন।
স্থানীয় মাদরাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ জানান, প্রতিবছর কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যয়ের একটি অংশ পরিচালনা করা হয়। কিন্তু এবার চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এদিকে সরকার কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত আড়ত না থাকায় চামড়ার বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক বলেন, কোরবানির আগে এতিমখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছিল, তারা চামড়াগুলো সংরক্ষণ করে রাখবেন এবং দুই-এক দিন পরে বিক্রি করবেন। কিন্তু এভাবে নষ্ট করার কথা ছিল না। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।