বগুড়ার চামড়ার বাজারে ক্রেতা সংকটে হতাশ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
এক সময় কোরবানির ঈদ এলেই বগুড়ার চামড়ার বাজার জমে উঠত। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলত কেনাবেচার ব্যস্ততা।
কিন্তু এবার সেই দৃশ্য অনেকটাই বদলে গেছে। বাজারে নেই ক্রেতার ভিড়, নেই বড় ব্যবসায়ীদের আগের মতো সক্রিয়তা।
এতে চরম বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের কোটি কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। সেই অর্থ না পাওয়ায় অনেকের পুঁজি আটকে গেছে।
পাশাপাশি লবণের দাম বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চামড়া কেনাবেচায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে বলেও জানান তারা।
মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলেন, গ্রামাঞ্চল থেকে গরুর চামড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় কিনে শহরে এনে তারা বিক্রি করছেন মাত্র ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকায়।
এতে পরিবহন ও শ্রমিক খরচই উঠছে না, লাভ তো দূরের কথা। অনেকেই মূলধন হারানোর শঙ্কায় আছেন, বলেন ব্যবসায়ীরা।
তারা আরও বলেন, খাসির চামড়ার অবস্থা আরও ভয়াবহ। বগুড়া শহরের বাজারে খাসির চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ২০ টাকায়। অথচ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এ সব চামড়া ৩০ থেকে ৬০ টাকায় কিনেছিলেন, ফলে বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন তারা।
ক্রেতাদের মতে, গবাদিপশুর মধ্যে ল্যাম্পি রোগের প্রভাবে অনেক চামড়ার মান নষ্ট হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে শুধু ভালো মানের চামড়া কেনা হচ্ছে। নিম্নমানের চামড়ার চাহিদা না থাকায় দামও পাওয়া যাচ্ছে না।
মৌসুমি ব্যবসায়ী মংলা মিয়া বলেন, গ্রাম থেকে বেশি দামে চামড়া কিনে এখন কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। গাড়িভাড়া আর শ্রমিক খরচ দেওয়ার পর হাতে কিছুই থাকছে না।
আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত বকেয়া পরিশোধ ও বাজার স্থিতিশীল না হলে আগামীতে চামড়া ব্যবসায় আরও বড় সংকট তৈরি হতে পারে।
আড়তদার রিপন তালুকদার বলেন, ট্যানারিগুলোর কাছে আগের পাওনা আটকে আছে, টাকা না পেলে বড় পরিসরে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়।
আরেক আড়তদার জুয়েল হোসেন বলেন, লবণের দাম বেড়েছে, সংরক্ষণ খরচও বেশি। বাজারে চাহিদা কম থাকায় অনেকেই ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।