বাউফলের মান্তা পল্লীতে নৌকায় বসে ঈদের দিনেও ডাল-ভাতের অপেক্ষায় থাকে শিশুরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কোরবানির ঈদের দুপুর। চারদিকে পোলাও-মাংসের সুবাসে মুখরিত জনপদ। কিন্তু পটুয়াখালীর বাউফলের মান্তা পল্লীতে ঈদের দিনও যেন আর দশটা সাধারণ দিনের মতোই।
নদীতে ভাসমান নৌকায় বসবাস করা মান্তা সম্প্রদায়ের পরিবারগুলোতে নেই কোরবানির আয়োজন, নেই উৎসবের আনন্দ।
উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের বগী তুলাতলা খালে শতাধিক মান্তা পরিবার নৌকায় বসবাস করে। তাদের জীবন নদীকেন্দ্রিক। নৌকাতেই জন্ম, নৌকাতেই সংসার, আবার নৌকাতেই কাটে জীবনের প্রতিটি দিন। তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করেই চলে তাদের জীবিকা।
ঈদের দিন দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সারি সারি নৌকার মধ্যে কোথাও রান্না হচ্ছে নদীর মাছ, কোথাও শুধু ডাল-ভাত। পুরোনো পোশাক পরে নৌকার ওপর খেলছিল শিশুরা। অন্যদিকে পোলাও-মাংসের অপেক্ষার বদলে তারা অপেক্ষা করছিল এক প্লেট ডাল-ভাতের জন্য।
মান্তা নারী হোসনেয়ারা বেগম ছোট একটি চুলায় ভাত রান্না করছিলেন। পাশে আরেকটি পাতিলে ডাল ধোয়া হচ্ছিল। তার দুই সন্তান জয়নব ও রাসেল খাবারের অপেক্ষায় বসে ছিল।
হোসনেয়ারা বলেন, তিনি ও তার স্বামী দুজনই জেলে। তাদের কোনো জমিজমা নেই। কয়েকদিন ধরে নদীতে মাছ কম পাওয়ায় ঈদের জন্য আলাদা কোনো বাজারও করতে পারেননি। সন্তানদের জন্য নতুন কিছু কেনার সামর্থ্যও হয়নি।
মান্তা জেলে শহিদ সরদার বলেন, “আমাগো জন্ম নৌকাত, থাহিও নৌকাত। আমরা অন্যকোনো কামকাজ পারি না। মাছ পাইলে খাই, না পেলে খেয়ে না খেয়ে কষ্ট দিন কাডে। আমাগো ঈদের দিন আর অন্যদিন একই।”
৯ বছর বয়সী মান্তা শিশু জান্নাতুল বলে, “ঈদের দিন ঘুরতে মন চায়, পলাউ মাংস খেতে মন চায়। কিন্তু আমাগো বাপ মার টাকা নাই। তাই ঘুরতেও পারি না, পলাউ মাংসও খেতে পারি না।”
আরেক মান্তা নারী চম্পাজান বিবি বলেন, “মানুষ কুরবানি দেয়, হ্যারা ভালো মন্দ খায়, হ্যাগো পোলাপান আনন্দ ফুর্তি করে। আমাগো কুরবানি দেয়ার তৌফিক নাই, আমরা দেই না। কেউ আমাগো গোস্ত দেয় না, খবরও নেয় না। ডাইল ভাত খাইয়া আমাগো দিন কাডে।”
কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফিরোজ হাওলাদার জানান, যাদের জেলে কার্ড রয়েছে তারা ভিজিএফের চাল পান। এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অনেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে পরিষদের পক্ষ থেকে সহায়তার সুযোগ সীমিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।