গোপালগঞ্জে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ
দুর্ঘটনাকবলিত বাস। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে জড়ো হন স্থানীয় লোকজন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঈদের দিনে গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন বাসযাত্রী।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ শহরের বেদগ্রাম এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে
দুর্ঘটনার পর আহতদের গোপালগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পিরোজপুরগামী দোলা পরিবহনের একটি বাস বেদগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ওপর উল্টে যায়।
ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের দুই আরোহী এবং বাসের দুই যাত্রী নিহত হন। পরে আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া এক শিশুকেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতরা হলেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া গ্রামের সমেশ ঢালীর ছেলে শয়ন ঢালী (২০) এবং একই গ্রামের মাহাবুব শেখের ছেলে সইব শেখ (১৯)।
তারা মোটরসাইকেলে করে মাদারীপুরের কদমবাড়ী গ্রামে গণেশ পাগলের মেলায় যাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
অন্য নিহতরা হলেন পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামের মোসাম্মৎ খাদিজা খাতুন (৩২), তার স্বামী মো. সোহাগ এবং তাদের ছেলে আরমান (৮)।
দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে পাঠান। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ জামান বলেন, গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিহত প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২০ হাজার টাকা করে সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে. এম বাবর বলেন, অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের কারণেই মহাসড়কে দুর্ঘটনা বাড়ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।