টাঙ্গাইল ও কালিহাতী (টাঙ্গাইল) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬ ১১:২৪ এএম
ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকো যানবাহন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঘরমুখো মানুষের চাপ, টানা বৃষ্টি এবং যমুনা সেতু এলাকায় কয়েকটি যানবাহন বিকল হওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট ও সেতু এলাকায় ধীরগতিতে চলছে যানবাহন।
এতে ঈদযাত্রায় ঘরমুখো যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে মঙ্গলবার রাত থেকে মির্জাপুরের গোড়াই পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে থেমে থেমে যানজট দেখা দেয়। কোথাও যানবাহন একেবারে স্থবির হয়ে পড়ে, আবার কোথাও ধীরগতিতে চলাচল করে।
এরপর বুধবার সকালেও বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানবাহনের সারি তৈরি হয়।
এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলছে এবং করটিয়া থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত আরও প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় অতিরিক্ত যানযটের চাপ দেখা গেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, স্বাভাবিক সময়ে যে পথ পাড়ি দিতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা লাগে, সেখানে সময় লাগছে সাত থেকে নয় ঘণ্টা পর্যন্ত। মৌচাক থেকে পাবনাগামী এক যাত্রী জানান, দেড় ঘণ্টার পথ আসতে সাড়ে সাত ঘণ্টা লেগেছে, এখনও তিনি আটকে আছেন।
আরেক যাত্রী বলেন, তিনি নয় ঘণ্টাতেও টাঙ্গাইল পার হতে পারেননি। কোথাও কোথাও যানবাহন সম্পূর্ণভাবে থেমে ছিল বলে জানান তিনি।
বাস সংকটের কারণে অনেক যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ট্রাক ও পিকআপে যাতায়াত করছেন। এতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। বৃষ্টির মধ্যে মোটরসাইকেল আরোহীরাও দুর্ভোগে পড়েন।
যমুনা সেতু সাইট অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে ৫৬ হাজারের বেশি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর ফলে টোল আদায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অতিরিক্ত চাপ ও বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, বৃষ্টি ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের পাশাপাশি কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে পড়ায় যানজট তৈরি হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে বলে আশা করা হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার বলেন, মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ও বৃষ্টির কারণে ধীরগতি সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানজট নিরসনে তারা কাজ করছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। ঈদযাত্রার শেষ সময়ে এমন দীর্ঘ যানজটে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।