ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের উৎসবে দায়িত্ব পালন করেন বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বী কর্মীরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সারাদেশে ঈদের সময় জরুরি সেবাখাতে জনবল সংকট দেখা দিলেও ব্যতিক্রম চিত্র পার্বত্য জেলা বান্দরবানে। বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর সহাবস্থানের এ জেলায় একে অপরের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে উৎসব ভাগাভাগির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা।
স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা খাতে কর্মরত বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে সহকর্মীদের নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব উদযাপনের সুযোগ করে দিচ্ছেন। ফলে সরকারি ছুটির পাশাপাশি অনেকে অতিরিক্ত দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পান তারা।
এমনই চিত্র দেখা গেছে বান্দরবান সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। সেখানে কর্মরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জনবল সংকট থাকলেও সহকর্মীদের উৎসব নির্বিঘ্ন করতে সবাই আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে যেমন সেবাগ্রহীতারা নিরবচ্ছিন্ন সেবা পান, তেমনি কর্মীরাও নিজেদের ধর্মীয় উৎসব আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করতে পারেন।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার জুলি খিয়াং বলেন, “ইসলাম ধর্মাবলম্বী নার্সরা ধর্মীয় উৎসবে সরকারি ছুটি অনুযায়ী শতভাগ ছুটি পেয়ে থাকেন। রোস্টার এমনভাবে করা হয়, যাতে তাদের উৎসবে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে এবং জরুরি সেবাও সচল থাকে”।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা. অতনু চৌধুরী বলেন, “বান্দরবানে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী চাকরিজীবী হাসপাতালে কর্মরত আছেন। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের উৎসবে বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দায়িত্ব পালন করেন। আবার বৌদ্ধ বা হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবে মুসলিম সহকর্মীরা দায়িত্ব নেন। এতে সেবাগ্রহীতাদের কোনো সমস্যা হয় না এবং সেবা কার্যক্রমও ব্যাহত হয় না”।
তিনি আরও বলেন, “পারস্পরিক সহযোগিতার এ সংস্কৃতির কারণে সবাই নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসবের সরকারি ছুটি উপভোগ করতে পারেন”।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহিন হোসাইন চৌধুরী বলেন, “জেলা সদর হাসপাতালসহ সাত উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী কর্মীরা জরুরি সেবায় নিয়োজিত আছেন। তারা একে অপরের ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেন। ঈদের সময় বৌদ্ধ, হিন্দু ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা দায়িত্ব পালন করেন। আবার অন্য ধর্মীয় উৎসবে মুসলিম কর্মীরা দায়িত্ব নেন”।
তিনি জানান, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির এ সংস্কৃতির কারণে বান্দরবানে সব ধর্মের মানুষ আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব উদযাপন করতে পারেন। একই সঙ্গে জরুরি সেবাও নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকে।
উল্লেখ্য, সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। তবে ২৩ ও ২৪ মে (শনিবার ও রোববার) অফিস খোলা থাকবে। আগামী ২৮ মে দেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।