টাঙ্গাইল সড়ক দুর্ঘটনা
টাঙ্গাইল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নওগাঁর একই গ্রামের ৬ জনকে জানাজার পর পাশাপাশি দাফন করা হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত নওগাঁর একই গ্রামের নিহত সাতজনের মধ্যে ছয়জনের একসঙ্গে জানাজা শেষে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।
জেলার মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে জানাজার নামাজ শেষে তাদের পাশাপাশি কবরস্থ করা হয়।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ।
পরে মঙ্গলবার ভোরে মরদেহগুলো মান্দার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে এসে পৌঁছায়।
নওগাঁর নিহত ১০ জনের মধ্যে বাকিদের ৪ জনের নিজ নিজ বাড়িতে মঙ্গলবার ভোরে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে মঙ্গলবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, দাফনের জন্য আশপাশের গ্রাম থেকে খাটিয়া আনা হচ্ছে। শরিয়া নিয়ম অনুযায়ী সারি সারি সাজিয়ে রাখা ৬টি খাটিয়াতে মরদেহগুলো রাখা হয়।
মরদেহগুলো এক নজর দেখতে আশপাশের কয়েক গ্রামের প্রতিবেশী ও নিহতদের স্বজনরা ভিড় করেন। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে পুরো রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
জানাজায় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাজাহান, নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারি টিপু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, মান্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আখতার জাহান সাথী, মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খোরশেদ আলমসহ আশপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদ বলেন, নিহত পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে প্রতি পরিবারের মাঝে ২৫ হাজার টাকা এবং শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আমরা সকলেই শোকাহত। পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিহাতীতে সোমবার ভোর ৪টার দিকে রডবোঝাই একটি ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়। মহাসড়কের সরাতৈল দক্ষিণপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের ১০ জনের বাড়ি নওগাঁয়। এর মধ্যে নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে ৭ জনের, পাকুড়িয়া গ্রামের ২ জন এবং নিয়ামতপুর উপজেলার ১ জন ছিলেন।
নিহতরা সবাই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ করার উদ্দেশ্যে বাড়ি ফিরছিলেন।
নওগাঁর নিহতরা হলেন—মান্দা উপজেলার সাকিম মিয়ার ছেলে মো. সাগর মিয়া (২০), একই এলাকার শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), আব্দুর রশিদের ছেলে মো. বারিক (২১), একই উপজেলার আব্দুর রহিমের ছেলে বাদশা (৩২), উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের রশিদের ছেলে গিয়াস (২০) ও তার ভাই মাইনুল (২৮), রাজেন্দ্রবাটি এলাকার একাব্বর আলীর ছেলে ইয়াকুব (২০), একই এলাকার সুলতানের ছেলে তারেক (২০), জাফরের ছেলে মাইনুল (৩৫), নিয়ামতপুর উপজেলার রামগা এলাকার সুজন (৩৫)।