চাঁদপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬ ১৯:০৩ পিএম
আপডেট : ২৫ মে ২০২৬ ১৯:০৮ পিএম
কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে চাঁদপুরে দুই লঞ্চের সংঘর্ষ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঝড়ের কবলে পড়ে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে নোঙর করা একাধিক লঞ্চ, পন্টুন ও জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সময় ঘাটে ভিড়তে গিয়ে দুই যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। কয়েক ঘণ্টা ধরে ঘাটে ও লঞ্চে আটকা পড়ে থাকেন হাজারও যাত্রী।
হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে সোমবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রবল বাতাস ও উত্তাল নদীর মধ্যে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো ঘাটে ভিড়তে গিয়ে বিপাকে পড়ে। এসময় যাত্রীবাহী ‘ঈগল-৭’ লঞ্চে থাকা যাত্রীরা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই আরেক যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘ময়ূর-২’ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঈগল-৭ লঞ্চটিকে ধাক্কা দেয়।
লঞ্চ মালিক সমিতির প্রতিনিধি বিপ্লব সরকার বলেন, “সংঘর্ষের ধাক্কায় ঈগল-৭ লঞ্চটি হেলে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। প্রাণ বাঁচাতে অনেকে ব্যাগ ও মালামাল ফেলে দ্রুত নামার চেষ্টা করেন। এতে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হলে নারী ও শিশুসহ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে”।
নদী বন্দরের ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পরপরই ঘাট এলাকায় দায়িত্বে থাকা নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও স্কাউট সদস্যরা উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আতঙ্কিত যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু সময়ের জন্য নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে যাত্রীদের ফেলে যাওয়া ব্যাগ ও মালামাল বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়”।
বিআইডব্লিউটিএর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, “দুটো লঞ্চ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ঘাটে একটি জেডি তিনটি পল্টুন ক্ষতিগ্রস্ত হয়”।
দ্রুত এসব মেরামত করে যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।