জঙ্গল সলিমপুর
চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬ ১২:৩৮ পিএম
আপডেট : ২৫ মে ২০২৬ ১৩:৩৪ পিএম
জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় নির্মাণাধীন র্যাব ক্যাম্পে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
গভীর রাতে অতর্কিত র্যাব ক্যাম্পে (চৌকি) গুলি চালিয়েছে একদল সন্ত্রাসী। এরপর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ক্যাম্পের দেয়ালসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে না পারেন, সেজন্য অন্তত তিনটি স্থানে কেটে দেওয়া হয়েছে রাস্তা।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় রবিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
র্যাবের দাবি, সন্ত্রাসী ‘ইয়াসিন বাহিনী’র সদস্যরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত।
আরও পড়ুন: কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপি নেতাসহ দুজন গুলিবিদ্ধ, আটক দুই |
এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, রাস্তা কেটে দেওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করেন যৌথ বাহিনীর সদস্যরা। গাড়ি চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় গাড়ি দূরে রেখে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তারা। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে সন্ত্রাসীদের দমনে অ-প্রাণঘাতী (নন-লিথাল) অস্ত্র ব্যবহার করে র্যাব। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রবিবার দিবাগত রাত একটার দিকে সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়।
দীর্ঘদিন অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির প্রায় ৩,২০০ সদস্যের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে দখলমুক্ত করে প্রশাসন। এর আগে একাধিকবার চেষ্টা করেও এলাকাটিকে দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি; উল্টো হামলার শিকার হতে হয়েছিল পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের।
স্থানীয়দের মতে, অভিযানের আগে জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকা রোকন এবং আলীনগর এলাকা ইয়াসিনের দখলে ছিল।
যৌথ অভিযানের পর সরকার এই এলাকায় পুলিশ ও র্যাবের জন্য দুটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেয়। এরই অংশ হিসেবে আলীনগরে র্যাবের একটি ক্যাম্প তৈরির কাজ চলছিল, যা গতকাল রাতে সন্ত্রাসীরা গুঁড়িয়ে দেয়।
গত ৯ মার্চের অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও ইয়াসিন বাহিনীর প্রধান মো. ইয়াসিন, রোকন বাহিনীর প্রধান রোকন উদ্দিনসহ মশিউর রহমান, নুরুল হক ভান্ডারি, গাজী সাদেক ও গোলাম গফুরের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এখনও পলাতক।