মিঠাপুকুর
মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬ ১০:২১ এএম
আপডেট : ২৫ মে ২০২৬ ১১:০২ এএম
কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম। ছবি: ভিডিও থেকে
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে ওই নারী রংপুর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই নারী আদালতে একটি মামলা করেছিলেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য মিঠাপুকুর থানায় পাঠান। মামলার নথিতে থাকা ওই নারীর ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন মিঠাপুকুর থানার কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম। তিনি ওই নারীকে বিভিন্ন সময় ফোনে উত্ত্যক্ত করতেন।
এক পর্যায়ে বিয়ের শর্তে দুজনের মধ্যে যোগাযোগ নিবিড় হয়। বিয়ের কথা বলে শহিদুল ওই নারীকে গাইবান্ধায় নিয়ে যান এবং একটি ‘ভুয়া’ কাবিননামা তৈরি করে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে আশ্বস্ত করেন। ওই নারী শহিদুলকে স্বামী হিসেবে মেনে নেন। থানার ঝাড়ুদার শেখ সাদীর বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে ওই নারীকে নিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন শহিদুল।
ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি বুঝতে পেরে শহিদুল মাথা ঘোরা ও বমি বন্ধের কথা বলে তাকে গর্ভপাতের ওষুধ খাইয়ে দেন। কয়েকদিনের মধ্যে ওই নারীর গর্ভপাত হয়। এর পর থেকে শহিদুল ফোন বন্ধ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। থানায় খোঁজ নিয়ে ওই নারী জানতে পারেন-শহিদুলকে মিঠাপুকুর থানা থেকে বদলি করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “আপনারা তো আমাকে ভাইরাল করে দিলেন। এ বিষয়ে ফোনে কোনও বক্তব্য দিতে পারব না। পরে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।”
এ বিষয়ে রংপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, “বিভাগীয় তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে রংপুর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”