ফেনীর দাগনভূঞায় আগুন জ্বলে ওঠা নলকূপ সোমরাব পরিদর্শন করবেন বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
ফেনীর দাগনভূঞায় একটি নতুন নলকূপ স্থাপনের পর পানি তুলতে গিয়ে আগুন জ্বলে ওঠার ঘটনায় গ্যাসের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)।
বাপেক্সের ভূ-তাত্ত্বিক টিম সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সার্ভে করবে।
এ সময় তারা গ্যাসের নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি কূপটির সম্ভাব্যতা যাচাই করবেন।
এর আগে রবিবার বিকেলে বাপেক্সের একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়।
নোয়াখালীর শাহজাদপুর গ্যাস ফিল্ডের সহকারী ব্যবস্থাপক সতীশ চন্দ্র বর্মন জানান, বাপেক্স কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মাল্টিগ্যাস মনিটরের মাধ্যমে গ্যাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করে। পরীক্ষায় নলকূপে অক্সিজেনের পরিমাণ ৩২ শতাংশ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষতিকর গ্যাস হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তবে কিছু পরিমাণ দাহ্য গ্যাস, বিশেষ করে মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব মিলেছে। মাত্র ১১০ ফুট গভীরে খননের পর এ গ্যাসের উদগীরণ হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বাপেক্সের প্রাথমিক মনিটর কমিটি ধারণা করা হচ্ছে, মাটির নিচে জমে থাকা পকেট গ্যাস থেকে এ উদগীরণ হতে পারে।
আবার অন্য কোনো প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের ছিদ্রপথ দিয়েও গ্যাসটি আসতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভূ-তাত্ত্বিক টিমের বিস্তারিত পরীক্ষার পর প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে।
দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম জানান, বাপেক্স টিমের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুও বিষয়টির খোঁজখবর নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
এর আগে উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের কোরবানপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. হাসান গৃহস্থালির ব্যবহারের জন্য শনিবার নিজের বাড়ির পাশে ১১০ ফুট গভীরে একটি নতুন নলকূপ স্থাপন করেন।
এরপর সন্ধ্যায় নলকূপ স্থাপনের কাজ শেষ হওয়ার পর পানি তুলতে গেলে আকস্মিকভাবে আগুন জ্বলে ওঠে।