× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

পৃথক ঘটনায় ৬ জন নিহত

প্রবা প্রতিবেদন

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬ ২২:৫২ পিএম

আপডেট : ২৪ মে ২০২৬ ২২:৫২ পিএম

পৃথক ঘটনায় ৬ জন নিহত

দেশের বিভিন্ন স্থানে চালক, দিন মজুর, গৃহবধূ খুন হয়েছেন।অন্যদিকে বখাটেদের ব্ল্যাকমেইলের শিকার স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা করেছেন। পৃথক এসব ঘটনায়  শনিবার (২৩ মে) ও রবিবার (২৪ মে) মারা গেছেন ৬ জন। নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, ঝিনাইদহ, নরসিংদী ও নেত্রকোণায় এসব নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদকদের পাঠানো খবর- 

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সুমন (২৮) নামে এক ট্রাক চালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৩ মে) সকালে ফতুল্লার পঞ্চবটী মেথরখোলা পৌর টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে ঢাকার রামপুরার ডেল্টা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান। 

এ ঘটনায় হাতেম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন টার্মিনালের চালক-শ্রমিকরা। নিহত সুমন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গোকর্ণ গ্রামের নারায়ণের ছেলে। আটক হাতেম ফতুল্লা মডেল থানার মুসলিমনগর এলাকার আলিমুদ্দিনের ছেলে।

জানা গেছে, ট্রাক চালক সুমন ও হাতেম ফতুল্লার পঞ্চবটী পৌর টার্মিনাল সংলগ্ন বোডবাড়ী এলাকার নুরি মিয়ার বাড়িতে পাশাপাশি কক্ষে ভাড়াটিয়া হিসেবে বাস করতেন। হাতেম একই টার্মিনালে ভিন্ন একটি ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ করেন।

স্থানীয়রা জানায়, হাতেম নিয়মিত ঘরে বসে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি নিয়ে সুমন প্রতিবাদ করেন। প্রতিবাদের বিষয়টি বাড়ির মালিককেও জানেন। এতে হাতেম সুমনের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। শনিবার সকাল ১০টার দিকে সুমন হেঁটে পৌর টার্মিনালে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। টার্মিনালের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা হাতেম পেছন থেকে লম্বা একটি কাঠের টুকরো দিয়ে তার মাথা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে সুমন গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ শহরের ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে আইসিইউ শয্যা না থাকায় পরে রামপুরার ডেল্টা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

একই টার্মিনালের শ্রমিক শুক্কুর মিয়া জানান, সকালে ফোন পেয়ে তিনি হাসপাতালে যান। পরে আহত সুমনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ডেল্টা ক্লিনিকে নেওয়া হয়। তিনি বলেন, মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় হাতেম ক্ষিপ্ত হয়ে কাঠের টুকরো দিয়ে সুমনের মাথায় আঘাত করে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহাবুব আলম বলেন, রাতে বিষয়টি জানতে পেরেছি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়রা একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কেউ যোগাযোগ করেনি এবং লিখিত অভিযোগও দেয়নি।

এদিকে, জেলার সিদ্ধিরগঞ্জে একটি পরিত্যক্ত প্লাস্টিক গোডাউন থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর বলে ধারণা করছে পুলিশ। শনিবার রাত ১০টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অধীন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৮নং  ওয়ার্ডের গোদনাইল শান্তিনগর ক্যানেলপাড় এলাকায় পরিত্যক্ত প্লাস্টিক গোডাউনের ভেতরে মরদেহটি পাওয়া যায়। গোডাউনটির জায়গার মালিক ইউনুস খান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক আশরাফউজ্জামান জানান, গোডাউনটির সামনের দরজায় তালা লাগানো ছিল। তবে পেছনের দরজা খোলা অবস্থায় ছিল। মরদেহটি সামনের দরজার কাছেই পড়ে ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহটি ৪ থেকে ৫ দিন ধরে সেখানে পড়ে ছিল। সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

খুলনা : মহানগরের হরিণটানা থানা এলাকায় এক দিনমজুরকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে ও মাথা থেঁতলে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ৫টার দিকে হরিনটানা থানাধীন কৈয়া বাজার জয়খালী ব্রিজ সংলগ্ন একটি মসজিদের বারান্দা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত দিনমজুরের নাম ডালিম গাজী। তিনি খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর এলাকার আবুল হোসেন গাজী ও ভানু বিবির ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল সাড়ে ৫টার দিকে কৈয়া বাজার জয়খালী ব্রিজ সংলগ্ন খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক সংলগ্ন জয়খালী উত্তরপাড়া বাইতুল মা’মুর জামে মসজিদের বারান্দায় একটি গলা কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্বৃত্তরা তার মাথাটি শরীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে রেখে যায়। এছাড়া মরদেহের মাথায় ইটের আঘাতের গভীর চিহ্ন দেখা গেছে। লাশের পাশেই একটি রক্তাক্ত ইট পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে হরিণটানা থানায় খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

হরিণটানা থানার ওসি হেলাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পাশেই সিআইডির একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের কাজ শেষ করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হচ্ছে।

ওসি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গভীর রাতে বা ভোরের দিকে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করার পর গলা কেটে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই জোরদার তদন্ত শুরু করেছে।

এদিকে সজিদের বারান্দায় এমন রোমহর্ষক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পরই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ঝিনাইদহ : ‎ঝিনাইদহে স্বামীর ধারালো অস্ত্রে লাগাতে স্ত্রীর মৃত্যু ঘটেছে।  সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামে স্বামী শিমুলের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্ত্রী সাগরিকা খাতুন ওরফে বুলবুলি (৩০) মারা গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকেই তার স্বামী শিমুল মিয়া পলাতক রয়েছেন। রবিবার (২৪ মে) ভোরে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

‎স্বজনরা জানায়, দিনমজুর স্বামী শিমুল মিয়া পারিবারিক কলহের জেরে শনিবার দিবাগত মধ্য রাতে স্ত্রী সাগরিকা খাতুনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, হাত পা সহ শরীরের ভিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। পরে তার চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে সাগরিকাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। ‎সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার ভোর ৪ টার দিকে তার মৃত্যু হয়। সাগরিকা বেশ কিছুদিন যাবৎ স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হওয়াতে পার্শ্ববর্তী করিমপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিল। গত তিনদিন আগে সাগরিকাকে তার স্বামী আবারো বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।

‎‎ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় কোন মামলা হয়নি।

নরসিংদী : নরসিংদীর রায়পুরায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে রফিকুল ইসলাম মুন্সি (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৩ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের হাঁটুভাঙ্গা রেলগেট সংলগ্ন ‘ভাই ভাই স্টোর’-এ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত রফিকুল ইসলাম মুন্সি হাঁটুভাঙ্গা এলাকার সাহারাজ খলিফার ছেলে। তিনি স্থানীয় হাঁটুভাঙ্গা রেলগেট এলাকায় স্যানিটারি, টাইলস ও হার্ডওয়্যার পণ্যের ব্যবসা করতেন। নিহতের বাড়ি দোকান থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফিরতেন। শনিবার রাত ১০টা বেজে গেলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। বারবার তার মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। একপর্যায়ে স্বজনরা দোকানে গিয়ে দেখেন, দোকানের শাটার নামানো থাকলেও তাতে কোনো তালা লাগানো ছিল না। শাটার তুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই দোকানের মেঝেতে রফিকুলের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। পরিবারের সদস্যদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে থানায় খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিহতের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। রক্তক্ষরণে দোকানের মেঝে ভেসে গিয়েছিল।

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। রবিবার (২৫ মে) সকালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি বিশেষ ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।

রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ জানান, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের রক্তাক্ত মরদেহ দোকানের গোডাউন থেকে উদ্ধার করি। মরদেহে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। ইতোমধ্যে সিআইডি আলামত সংগ্রহ করেছে এবং আমরা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করছি। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

নেত্রকোণা : নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মোহনা। স্থানীয় বখাটেদের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে গত ৮ মে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সে। এ ঘটনায় মোহনার বাবা বাদী হয়ে দুই বখাটের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলেও গ্রেপ্তার হচ্ছে না অভিযুক্ত বখাটেরা।

এরইপ্রেক্ষিতে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধব ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে মোহনার পরিবার ও সহপাঠীসহ এলাকাবাসী।

রবিবার (২৪ মে) দুপুরে উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের বীরগঞ্জ বাজারে এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, 

জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি হুমায়ুন রায়হান, স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম, আবুল কাশেম, ইদ্রিস মিয়া, মোহনার বাবা হিরন মিয়া, মা হ্যাপি আক্তার, সহপাঠী জলি আক্তার ও মীম আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা অভিযোগ করেন, একই উপজেলার নগুয়া গ্রামের মৃত কিতাব আলীর ছেলে শামীম মিয়া (২৪) ও সিংহেরগাঁও গ্রামের জোদ্দার মিয়ার ছেলে জিহাদ মিয়া (২২) দীর্ঘদিন ধরে মোহনাকে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে। একপর্যায়ে গত ৮ মে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে মোহনা। ঘটনার পর গত ১৪ মে নেত্রকোনা আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন মোহনার বাবা হিরন মিয়া। তবে মামলার এতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

তাই অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে বীরগঞ্জ বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পুরো বাজার প্রদক্ষিণ করে। এ সময় মিছিলকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি দ্রুত জড়িত বখাটেদের গ্রেপ্তার ও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলে ধরেন।

মোহনার সহপাঠী জলি আক্তার জানায়, বখাটের প্রতারণার শিকার হয়ে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছে আমাদের বান্ধবী। নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক কাজ করছে। তাই ঘটনার সাথে জড়িত বখাটেদের এমন শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে আর কেউ মেয়েদের সাথে ব্ল্যাকমেইল করার সাহস না পায়। 

মোহনার বাবা হিরন মিয়া বলেন, আমি দরিদ্র মানুষ। দিনমজুরি করে সংসার চালাই। আমার একটা মেয়ে এবং একটা ছেলে। ছেলেটা ছোট। মেয়েটা স্কুলে পড়তো। কিন্তু বখাটেরা আমার মেয়েটাকে বাঁচতে দিলো না। আমি আমার মেয়ে হত্যাকারী বখাটেদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসি চাই। আমাদের মতো আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন খালি না হয়।  

জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান রফিকুল ইসলাম বলেন, দরিদ্র পরিবারের মেয়েটির সাথে প্রচারণা করে বখাটেরা যদি পার পেয়ে যায়, তাহলে দিন দিন অপরাধ বাড়তেই থাকবে। তাই আমরা শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ এলাকাবাসী মোহনার আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানার ওসি মেহেদি মাকসুদ বলেন, মামলা রুজু হয়েছে এবং মামলাটির তদন্তকাজ চলছে। আসামী গ্রেপ্তার নিয়ে বাদীপক্ষ তাদের কথা বলছে। তবে তদন্তে প্রমাণ পেলে পুলিশ অবশ্যই আসামীদের গ্রেপ্তার করবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা