শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬ ২২:০৪ পিএম
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পরানপুর বাজারের টিসিবি ডিলার বাবলুল করিমকে সরকারি বরাদ্দের অতিরিক্ত বিপুল পরিমাণ চাল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ৩০ জানুয়ারি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় থেকে ৮১১৪৫৮ নম্বর ডিও’র মাধ্যমে ডিলার বাবলুল করিমকে ৬ হাজার ৭২৫ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। অথচ তার অধীনে থাকা ৪৭৮টি কার্ডের বিপরীতে ৫ কেজি হারে প্রাপ্য চালের পরিমাণ ছিল মাত্র ২ হাজার ৩৯০ কেজি। সে হিসেবে ওই ডিওতে অতিরিক্ত দেওয়া হয় ৪ হাজার ৩৩৫ কেজি চাল।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকারি এই অতিরিক্ত চাল কোথায় গেল এবং কীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হলো। তাদের আরও প্রশ্ন-খাদ্য বিভাগের নিয়মিত তদারকি ও হিসাব-নিকাশের মধ্যেও যদি অতিরিক্ত এই পরিমাণ চাল বরাদ্দ হয়ে থাকে, তাহলে কি এর পেছনে কোনো অনিয়ম বা আত্মসাতের উদ্দেশ্য ছিল? বিষয়টি ঘিরে এখন জনমনে নানা সন্দেহ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পরবর্তী মাস অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে ৮৪৪৬৪৬৪ নম্বর ডিও’র মাধ্যমে একই ডিলারকে পুনরায় ৪৭৮টি কার্ডের অনুকূলে পূণরায় ২ হাজার ৩৯০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব চাল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলন করেন কৈখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক টিসিবি ডিলার বাবলুল করিম।
আজগার আলী, জহুর আলম ও আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ডিলার বাবলুল করিমের মাধ্যমে অতিরিক্ত বরাদ্দের চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এ ঘটনায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশ থাকতে পারে।
এ বিষয়ে ডিলার বাবুল করিমের কাছে অতিরিক্ত চাল বরাদ্দের ডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের চাল সরকার ডিও দিয়েছে, সরকারের লোকের দেওয়া হয়েছে। আপনি কি ফুড অফিসার? আপনার জানার দরকার কী? এসব বাদ দেন। এ কথা বলার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে নকিপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা আহমেদ জামান বলেন, আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। ঘটনাটি আমার যোগদানের আগের। অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাহিদুর রহমান বলেন, এটি অনেক আগের ঘটনা। সব অডিট শেষ হয়ে গেছে। ফাইলও এখন আমার কাছে নেই। এগুলো নিয়ে এখন ঘাঁটাঘাটি করার প্রয়োজন নেই।