জামালপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬ ১৯:৪০ পিএম
আপডেট : ২৪ মে ২০২৬ ১৯:৪৯ পিএম
জামালপুর শহরের শহরতলির কয়েকটি গ্রাম প্রায় ১৯ বছর চলমান জলবদ্ধতা শিকার। এ জলবদ্ধতা নিরসন এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন কয়েক গ্রামের প্রায় দুই সহস্রাধিক মানুষ।
রবিবার (২৪ মে) বেলা ১১টার দিকে জামালপুর-
টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। অবরোধের
কারণে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ হওয়ার কারণে
দূরপাল্লার পরিবহনসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে জামালপুর পৌরসভার
কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে এলাকাবাসী অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।
অবরোধে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী বাসিন্দারা
জানান, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক জামালপুর শহরের বিসিক শিল্পনগরী এলাকা, বাসস্ট্যান্ড,
সাহাপুর, জঙ্গলপাড়া, দরিপাড়া ও পূর্ব ফুলবাড়িয়া এলাকায় বর্ষা হলেই যেন কৃত্রিম
বন্যায় স্থায়ী জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বক্তার আরও বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের বাড়িঘর-রাস্তাঘাট,
স্কুল, মাদ্রাসা মসজিদ পানিতে তলিয়ে যায়। এর ফলে, প্রতিটি এলাকায় বিষধর সাপের
উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়Ñ যার কারণে মসজিদে নামাজ পড়া কিংবা পরিবার নিয়ে
বাড়িতে থাকাটাও এখন আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক সময় বিষধর সাপ ঘরের ঢুকে পড়ে।
মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ পড়তে পারে না। এছাড়াও বাড়ি ঘরে হাঁটু পানি ভেঙে প্রবেশ করতে
হয়। দীর্ঘদিন আমরা এই সমস্যার সম্মুখীন হলেও দেখার কেউ নেই। কয়েক দফায় আমরা জেলা
প্রশাসকের কার্যালয়, জামালপুর পৌরসভার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ
দিয়েছি এরপরও সুফল পায়নি আমরা।
আন্দোলনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে
ছুটে আসেন জামালপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. সোহেল মিয়া। তিনি এলাকাবাসীর
দুর্ভোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আপনাদের সমস্যাটা দীর্ঘদিনের। আমরা আপনাদের সমস্যার
জন্য ব্যাথিত। বৃষ্টি এলেই আপনাদের ঘরে সাপ ঢুকে। আপনাদের চলাফেরা করতে সমস্যা
হয়। ছোট বড় সবাই সাপ দেখলে ভয় পায়; বিষয়টা
আসলে দুঃখজনক। যেহেতু সামনে ঈদ হাজার হাজার মানুষ এই রুটে যাতায়াত করছে; আপনারা সাধারণ
মানুষের যাতায়াতের বিঘ্ন ঘটাবেন না। আজকে থেকেই পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু করব বলে
তিনি আশ্বাস দেন।
প্রকৌশলীর এই জুড়ালো আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে
এলাকাবাসী মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেন এরপর মহাসড়কের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক
হয়।
তবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া
হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ার দিয়েছেন স্থানীয় জনগণ।