নেত্রকোনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬ ১৯:২৫ পিএম
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বীরগঞ্জ বাজারে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী, সহপাঠী ও স্বজনরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় বখাটেদের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে সুমাইয়া আক্তার মোহনা নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকাবাসী, সহপাঠী ও স্বজনরা।
উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের বীরগঞ্জ বাজারে রবিবার দুপুরে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
নিহত মোহনা জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ৮ মে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। এ ঘটনায় তার বাবা হিরন মিয়া বাদী হয়ে দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। তবে এখনো আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি হুমায়ুন রায়হান, স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল ইসলাম, আবুল কাশেম, ইদ্রিস মিয়া, মোহনার বাবা হিরন মিয়া, মা হ্যাপি আক্তার, সহপাঠী জলি আক্তার ও মীম আক্তারসহ অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, নগুয়া গ্রামের শামীম মিয়া ও সিংহেরগাঁও গ্রামের জিহাদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে মোহনাকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে একপর্যায়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় সে।
মোহনার বাবা হিরন মিয়া বলেন, “আমি দরিদ্র মানুষ। দিনমজুরি করে সংসার চালাই। বখাটেরা আমার মেয়েটাকে বাঁচতে দিলো না। আমি তাদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসি চাই”।
সহপাঠী জলি আক্তার বলেন, “আমাদের বান্ধবী প্রতারণার শিকার হয়ে প্রাণ দিয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এমন শাস্তি হোক যাতে আর কেউ মেয়েদের ব্ল্যাকমেইল করার সাহস না পায়”।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই ঘটনার বিচার না হলে সমাজে অপরাধ আরও বাড়বে। আমরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি”।
ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে বীরগঞ্জ বাজারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদি মাকসুদ বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।