মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬ ১৯:১৪ পিএম
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এনএসইজেড) বেপজা ইকোনোমিক জোনে চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান খাইশি লিনজেরি বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডে চলা শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার (২১-২৩ মে) টানা তিন দিন ধরে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সামনে ১৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের কমার্শিয়াল ম্যানেজার ও দোভাষী মোহাম্মদ জামান উল্ল্যা মালিকপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন এবং স্থানীয় শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করার চেষ্টা করছেন।
বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের দাবি, জামান উল্ল্যা নিজ আত্মীয়-স্বজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছেন এবং কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই স্থানীয় শ্রমিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ ছাড়া নারী শ্রমিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য করা এবং টিফিন ও খাবার সরবরাহ নিয়ে জটিলতার অভিযোগও তুলেছেন শ্রমিকরা।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মোহাম্মদ জামান উল্ল্যা দাবি করেছেন, এইচআর কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার মুক্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যাওয়ায় তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
এ ছাড়া খাইশির কর্মকর্তা আশাদুল গালিবকে গত শুক্রবার রাত ৯টায় বড় দারোগারহাট থেকে অপহরণ করে সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে মারধর করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাকে ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারেও অভিযোগের তীর সেই কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার মুক্তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
পদত্যাগ করা কর্মকর্তা নাহিদা আক্তার মুক্তার দাবি, তাকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ স্থানীয় শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তিনি এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।
বেপজা ইকোনোমিক জোনের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক জানান, খাইশি লিনজেরিতে স্থানীয় শ্রমিকদের চাকরিচ্যুত করার খবরের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৩ হাজার ৮০০ শ্রমিকের মধ্যে ৩ হাজার ১০০ জনই মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড এলাকার স্থানীয় শ্রমিক। অন্যদিকে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই ওই কর্মকর্তা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।