× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

বড় গরুতে অনীহা, বাড়ছে ছোট ও মাঝারির চাহিদা

চম্পক কুমার, জয়পুরহাট

প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬ ১৫:৩৪ পিএম

আপডেট : ২৪ মে ২০২৬ ১৫:৪৭ পিএম

বড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু পালনে বেশি ঝুঁকছেন খামারিরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

বড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু পালনে বেশি ঝুঁকছেন খামারিরা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

আসন্ন কোরবানি ঈদ উপলক্ষে জয়পুরহাটের পশুর হাটগুলো জমতে শুরু করেছে। তবে এবারের হাটে আগের মতো বিশাল আকৃতির ষাঁড়ের দেখা মিলছে না বললেই চলে। খামারি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় খামারিরা বড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু পালনে বেশি ঝুঁকছেন।

আরও পড়ুন: পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

আক্কেলপুর উপজেলার খামারি সাগর হোসেন ছয় বছর ধরে একটি বিদেশি জাতের বড় ষাঁড় লালন-পালন করেছিলেন। ২০২৪ সালে এক হাজার কেজি ওজনের গরুটির দাম সাড়ে ৫ লাখ টাকা উঠলেও তিনি বিক্রি করেননি। পরবর্তী এক বছর লালন-পালনে আরও দেড় লাখ টাকা খরচ করার পর ঢাকার গাবতলী হাটে সেটি মাত্র ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন। এমন বড় লোকসানের কারণে তিনিসহ জেলার অনেক খামারি এবার বড় গরুর আশা ছেড়ে ছোট ও মাঝারি গরু প্রস্তুত করেছেন।

খামারি সাগর হোসেন বলেন, “বড় গরু পালনে অনেক খরচ। খাবারের দামও বেশি। আশা ছিল ভালো লাভ হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উল্টো লোকসান গুনতে হয়েছে। এখন আর এত বড় গরু পালনের সাহস পাই না”।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান জেলার আরেক খামারি সুমন হোসেন। তিনি বলেন, “গত কয়েক বছর কোরবানির ঈদে বড় ষাঁড় গরু পালন করে গ্রাহক মেলেনি। আবার কাঙ্ক্ষিত দামও পাওয়া যায়নি। এ কারণে এবার খামারে ছোট ও মাঝামাঝি সাইজের গরু লালন-পালন করেছি”।

শহরের নতুনহাটে গিয়ে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকাররা গরু কিনছেন। চুয়াডাঙ্গার ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন জানান, এবার হাটে বেশি ওজনের বড় গরু নেই। যা আছে সেগুলোর দাম কম। ছোট ও মাঝারি গরুর দাম ও চাহিদাই বেশি বলে জানিয়েছেন তিনি।

হাট ইজারাদার শামস মতিন আশা প্রকাশ করেন, কোরবানির আগে সামনের হাটগুলোতে পশুর আমদানি আরও বাড়বে। তিনি বলেন, “হাটে মানুষ কোরবানির জন্য ভালো গরু কিনে থাকে। আর এত আগে থেকে স্থানীয় লোকজন কোরবানির গরু কেনেন না। এখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীরা গরু কিনছেন। আজকে (শনিবার) হাটে বেশ ভালো সংখ্যক গরু উঠেছিল। বেচাকেনাও ভালো হয়েছে”।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ২ লাখ ৩ হাজার ৩৫০টি। এর বিপরীতে খামারি ও গৃহস্থরা ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৩টি পশু প্রস্তুত করেছেন। ফলে জেলার চাহিদা মিটিয়ে ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি উদ্বৃত্ত পশু দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

‎জয়পুরহাট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মহির উদ্দীন বলেন, “জেলায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে। তবে খরচ ও ঝুঁকি বেশি হওয়ায় খামারিদের বড় গরু পালনে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। বাজারের চাহিদা বিবেচনায় এবার ছোট ও মাঝারি গরুর সংখ্যাই বেশি”।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা