ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬ ০৯:৫৭ এএম
আপডেট : ২৪ মে ২০২৬ ১০:০৯ এএম
দাগনভূঞায় নতুন নলকূপে পানি তুলতে গিয়ে আগুন জ্বলে ওঠে। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
ফেনীর দাগনভূঞায় বাড়িতে বসানো নতুন নলকূপে পানি তুলতে গিয়ে আগুন জ্বলে ওঠার ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের কোরবানপুর গ্রামের পাটোয়ারী বাড়িতে শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী মো. হাসান গৃহস্থালীর ব্যবহারের জন্য শনিবার ঘরের পাশে ১১০ ফুট গভীরে একটি নতুন নলকূপ স্থাপন করেন। সন্ধ্যায় নলকূপ স্থাপনের কাজ শেষ হওয়ার পর মিস্ত্রিদের উপস্থিতিতে পানি তোলার সময় আকস্মিকভাবে আগুন জ্বলে ওঠে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা পর আগুন নিভে যায়। খবরটি দ্রুত আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
মাওলানা আবদুর জাহের নামে হাসানের এক স্বজন জানান, নলকূপ স্থাপনের কাজ শেষ হলে মিস্ত্রিদের উপস্থিতিতে পানি ওঠানোর জন্য চাপ দিতেই পানির সঙ্গে আগুন বের হতে শুরু করে। অন্তত আড়াই ঘণ্টা এভাবে আগুন দেখা গেছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে আসার আগেই আগুন নিভে যায়। এখন নলকূপের মুখ বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। আজ সংশ্লিষ্ট বিভাগের লোকজন এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে বলে আমাদের জানানো হয়েছে।
ফেনী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের লিডার উজ্জ্বল বড়ুয়া বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আমরা যাওয়ার আগেই আগুন নিভে গেছে। ভূগর্ভস্থ গ্যাসের উপস্থিতির কারণে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার প্রক্রিয়া চলছে।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ফেনী কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী সালেহ আহম্মদ বলেন, নতুন নলকূপ বসানোর সময় ভূগর্ভস্থ অল্প কিছু জমে থাকা গ্যাসের কারণে এমনটি ঘটতে পারে। এটি দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে যায়। এছাড়া এই ঘটনা সম্পর্কে আমি অবগত না। তবে এ ধরনের গ্যাস নির্গমনের বিষয়টি দেখভালের জন্য সরকারের আলাদা বিভাগ রয়েছে।