খুলনা অফিস
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬ ২১:৫৭ পিএম
খুলনার দাকোপ উপজেলায় মাছের ঘের দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার জেরে র্যাবের গাড়ি ভাঙচুর করে দুই আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৩ মে) দুপুরের দিকে উপজেলার চালনা আছাবুয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে র্যাব সদস্যদের থানায় নিয়ে আসে।
অপরদিকে এদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় ছিনিয়ে নেওয়া আসামিদের র্যাবের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে র্যাবের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের খোণা এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা বেড়িবাঁধের বাইরে প্রায় ৪০ বিঘা জমির একটি মাছের ঘের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল্লাহ ফকির ও বাচ্চু ফকির গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। গত শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ওই ঘেরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বাচ্চু ফকিরের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে প্রতিপক্ষের পাঁচজন গুরুতর আহত হন। তাদের দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আকরাম আলী ফকির বাদী হয়ে ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে মামলাকে হয়রানিমূলক দাবি করে শনিবার সকাল থেকে খোনা, খাটাইল ও তেলিডাঙ্গা গ্রামের কয়েকশ নারী-পুরুষ আচাভুয়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিলের প্রস্তুতি নেয়। এ সময় র্যাব-৬ এর একটি দল মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মুকুন্দ মণ্ডল ও রসুল গাজীকে আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আটক দুজনকে গাড়িতে তুলে নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা র্যাবের গাড়ি ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা গাড়িতে হামলা চালিয়ে আটকদের ছিনিয়ে নেয় এবং ভাঙচুর করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দাকোপ থানার ওসি শেখ খায়রুল বাসার জানান, বিক্ষোভ চলাকালে র্যাব দুজনকে আটক করেছিল। পরে বিক্ষোভকারীরা তাদের ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে র্যাব সদস্যদের থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে।
এদিকে ঘটনার পর উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। সেখানে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মান্নান খান, চালনা পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ মোজাফফর হোসেন ও সদস্য সচিব আল-আমিন সানা অভিযোগ করেন, সরকারি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বন্দোবস্তকৃত জমি দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তারা দাবি করেন, আমরা পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি। তবে মিছিল থেকে লোক আটক করায় উত্তেজনা তৈরি হয়।