নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬ ১৬:৩১ পিএম
আপডেট : ২৩ মে ২০২৬ ১৮:১০ পিএম
বরিশালে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
মানুষের বিপুল আশা নিয়ে সরকার ও সংসদ গঠিত হলেও প্রথম অধিবেশনেই জনগণ আশাহত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, সরকার জনগণের ভাষা না বুঝে জন আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।
বরিশাল মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে দুইদিনব্যাপী রুকন প্রশিক্ষণ শেষদিনের অনুষ্ঠানে শনিবার সকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের ক্ষোভের কারণে মন্ত্রীদের দেখে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে এবং সরকার দ্রুতই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার গণভোটে সত্তর শতাংশ জনগণের মতামত উপেক্ষা করে রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে, যা অপ্রয়োজনীয়।
তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক সংকট বেড়ে যাওয়ায় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জনগণের কাছ থেকে পালাতে হচ্ছে এবং সরকার দুই মাসের মধ্যেই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
‘প্রধানমন্ত্রী পদটি অতিমাত্রায় ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছে’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ভেঙে একদলীয় ফ্যাসিবাদের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং সংবিধানকে ফ্যাসিবাদের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে প্রধানমন্ত্রী পদটি অতিমাত্রায় ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছে, যা ভারসাম্যপূর্ণ শাসনব্যবস্থার জন্য বাধা।
তিনি দাবি করেন, ছাত্র–যুবকদের আন্দোলনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সরকারকে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য করা হলেও বর্তমান সরকার সেই আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করছে।
তিনি আরও বলেন, তেত্রিশটি রাজনৈতিক দল আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদে একমত হয় এবং সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় তা অনুমোদিত হয়।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, চুরাশি দফায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও পরবর্তীতে রাজনৈতিক মতবিরোধ তৈরি হয়।
‘আবারও আন্দোলনে নামবে জনগণ’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠিত হলেও তারা আগে গণভোটের পক্ষে ছিলেন। তবে জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে একই দিনে নির্বাচন মেনে নেওয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সহিংসতায় বিশ্বাস করে না এবং ফলাফল মেনে নিয়েছে, তবে গণভোট আগে হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার জনমতের বাইরে গেলে জনগণ আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী সাত জুন বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই গণভোট বিল আনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মো. বাবর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বরিশাল অঞ্চল তত্ত্বাবধায়ক অ্যাডভোকেট মুআযযাম হোসাইন হেলাল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এবং কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু।