আজিজুল হক, ফরিদপুর
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬ ১৬:১৩ পিএম
আপডেট : ২৩ মে ২০২৬ ১৬:২৩ পিএম
সেতুটির ওপরের কয়েকটি স্থানে বসানো হয়েছে কাঠের পাটাতন। দুপাশের রেলিং নেই বললেই চলে। আর পিলারগুলোর পলেস্তারা খসে পড়ছে আর সেই সঙ্গে মরিচা পড়েছে, আবার দেবে গেছে। যেন উপহাস করছে ভেঙে পড়লেই কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে! দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সেতুটির এমন বেহালদশা থাকলেও কর্তৃপক্ষ রয়েছে উদাসীন। ফলে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ থাকলেও তারা এখন আর এ নিয়ে কথা বলতে চান না, কেননা তারা রীতিমতো বিরক্ত।
বলছিলাম ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কাগদি বাজারের সন্নিকটে খালের ওপর থাকা সেতুটির কথা।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ প্রায় ১ যুগের বেশি সময় ধরে ভাঙাচোরা সেতুটি দিয়েই তারা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। ৩ যুগ আগে নির্মিত এ সেতুটি এখন পরিত্যক্তই বলা চলে। কিন্তু বিকল্প না থাকায় মারাত্মক ঝুঁকি নিয়েই এ এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। শুধু মানুষের চলাচলই নয়, এ সেতু দিয়ে কৃষকরা বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বাজারে আনা-নেওয়াও করেন।
সেতুটির বেশিরভাগ অংশই অকেজো। দুপাশের রেলিং ভেঙে গেছে অনেক আগেই। ফলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বানানো হয়েছে রেলিং। আর সেতুটির পাটাতন বিভিন্ন জায়গায় ভেঙে গেছে। সেটি কাঠ দিয়ে পাটাতন বানানো হয়েছে। আর পিলারগুলোর পলেস্তারা খসে গিয়ে রড পর্যন্ত বেরিয়ে গেছে এবং পিলারগুলো দেবে গেছে। সেতুটিতে উঠলেই আল্লাহর নাম জপেন বলে জানালেন বাজারের ব্যবসায়ী ইউনুস মাতুব্বর। তিনি বলেন, ‘সেতুটির অবস্থা এতটাই খারাপ যেকোনো সময় ভেঙে গিয়ে মৃত্যুরও আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সেতু দিয়ে যাওয়ার সময় আল্লাহর নাম নিতে থাকি।’ কাগদি এলাকার ভ্যানচালক হানিফ শেখ বলেন, ‘ভয়ে আর ভ্যান নিয়ে বাজারে যাই না, কখন ভেঙে যায় বলাতো যায় না।’
স্থানীয়রা জানান, কাগদি বাজারের ব্যবসায়ী, সাধারণ জনগণ ছাড়াও এ সেতু দিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীরা চলাচল করে। সেতুটি দিয়ে বাজার, মসজিদ, মন্দির, ভূমি অফিস, ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াত করতে হয়। তাছাড়া এলাকার কৃষিপণ্য এ সেতু দিয়েই বিভিন্ন হাট-বাজারে আনা-নেওয়া করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় তারা জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। মাঝে মধ্যে কর্মকর্তারা মাটি পরীক্ষা করে সেতুটি পুনর্নির্মাণের কথা বলে গেলেও রহস্যজনক কারণে হয়নি নতুন সেতু। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুতই সেতুটি ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, ১৯৮৮ সালে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ সেতুটি এখন আতঙ্ক হিসেবে এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত। কখন যে ভেঙে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেÑ তা নিয়েই সবাই আতঙ্কিত থাকি। প্রতিদিন এ সেতু দিয়েই হাজার হাজার মানুষ চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়েই।
সালথা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু জাফর মিয়া জানান, কাগদি বাজার সংলগ্ন সেতুটির বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পেরেছি, সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুর পাটাতন ও রেলিং খসে পড়েছে, পিলারগুলো দেবে গেছে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের অনুমোদন পেলেই নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।