মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬ ১২:৫৯ পিএম
আপডেট : ২৩ মে ২০২৬ ১৩:১৭ পিএম
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে মো. মিজান মিয়ার (২৫) বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে (২১) একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবক মো. মিজান মিয়ার (২৫) বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী বাদী হয়ে শুক্রবার কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত মিজান মিয়া সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের বানিয়াকান্দি গ্রামের কাশেম মিয়ার ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে কম্পিউটার শেখার জন্য তরুণীটি মিজান মিয়ার পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন। শুরুতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক থাকলেও পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
একপর্যায়ে মিজান মিয়া বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তরুণীর দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত বিভিন্ন সময়ে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।
পরে বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে অভিযুক্ত নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যেতে থাকেন। সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, মিজান মিয়া অন্যত্র বিয়ের চেষ্টা করছেন বলেও দাবি করেন তরুণী।
তরুণীর অভিযোগ, গত ১৮ মে সকালে কোচিং সেন্টারে গিয়ে বিয়ের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে অভিযুক্ত তাকে গালিগালাজ করেন এবং বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।
মামলা বা থানায় অভিযোগ করার কথা বললে তাকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জানান, অভিযুক্তের আশ্বাসে বিশ্বাস করে তিনি কলেজে ভর্তি কার্যক্রমও পিছিয়ে দেন।
তার ভাষ্য, “আমাদের সম্পর্ক গভীর হওয়ার পর একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। সে আমাকে বারবার বলেছে, সে আমাকে বিয়ে করবে। আমার পরিবারও বিষয়টি জানত এবং তার ওপর বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু এখন সে সবকিছু অস্বীকার করছে, অপমানজনক ভাষায় কথা বলছে এবং অন্যত্র বিয়ের চেষ্টা করছে। আমি এখন সামাজিকভাবে চরম বিব্রত ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”
তরুণীর এক স্বজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার পর এখন অন্যত্র বিয়ের চেষ্টা করায় মেয়েটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অভিযুক্ত ও তরুণীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় অনেকেই জানতেন। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় নারীরাও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত বিচার ও সামাজিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মিজান মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন।
যশোদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ সুলতান রাজন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।
যেহেতু থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তাই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি জানান।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।