রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬ ২২:৫৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার নোয়াপাড়া জামদানি পল্লী এলাকায় সরকারি জমি ও খেলার মাঠ দখল করে নিটিং, ডাইং ও ফিনিশিং কারখানা স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে শীতলক্ষ্যা নদীসহ আশপাশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে খেলার মাঠ হারিয়ে এলাকার যুবসমাজ মাদক ও অপরাধের ঝুঁকিতে জড়িয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় সরকারি জমি দখল হলেও তা উদ্ধার সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সরকারি জমি ও খেলার মাঠ পুনরুদ্ধারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন তারা।
সরেজমিন দেখা গেছে, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) নোয়াপাড়া জামদানি পল্লীর পূর্বপাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২৫টি আলাদা দাগে প্রায় ১২ বিঘা ৭ শতাংশ জমি রয়েছে। ১৯৯৬ সালে নোয়াপাড়া গ্রামের হাজী আলাউদ্দিন পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জমিটি লিজ নিয়ে মৎস্য খামার গড়ে তোলেন। পরে লিজ নবায়ন না হওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের উদ্যোগে সেখানে খেলার মাঠ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার আশ্বাসে তিনি মামলা প্রত্যাহার করেন।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিশু-কিশোররা ওই মাঠে খেলাধুলা করলেও ২০২৩ সালে হাজী আলাউদ্দিনের মৃত্যুর পর সেখানে ইউনিফিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড নামে একটি নিটিং, ডাইং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিং কারখানা গড়ে ওঠে। পরে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ট্রু ফেব্রিক্স লিমিটেড ও ২২৪ নিটিং ডাইং প্রিন্টিং অ্যান্ড ফিনিশিং নামে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা আহাম্মদ আলী বলেন, জায়গাটি খালি থাকাকালে এলাকার শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করত। এখন কারখানার বর্জ্যে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। কাজীপাড়া এলাকার শরীফ আহমেদ লিটন মিয়া বলেন, কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে স্থানীয়দের নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। কোনো ধরনের ইটিপি ছাড়াই বর্জ্য খোলা জায়গা ও জলাশয়ে ফেলা হচ্ছে। রূপসী কাজীপাড়া গ্রামের জিন্নাত আলী কাজী বলেন, সরকারি জমি হলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এটি দখল করা হয়েছে।
তারাব পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম চৌধুরী এলাকাবাসীর পক্ষে জলাশয় ভরাট ও সরকারি জমিতে কারখানা স্থাপনের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু কোনো ফল আসেনি। পরে হাজী আলাউদ্দিনের ছেলে আলী আকবর বাদী হয়ে দুদক বরাবর আবেদন করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রু ফেব্রিক্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জামান বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান শতভাগ রপ্তানিমুখী এবং পরিবেশবান্ধব। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে বৈধভাবে জমি লিজ নেওয়া হয়েছে। এটি কোনো খেলার মাঠ নয়, জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিরও কোনো আশঙ্কা নেই।
তারাব পৌরসভার সাবেক মেয়র মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিসিক জামদানি পল্লীর সুবিধার্থে এখানে সবুজায়ন, জলাশয় ও খেলার মাঠ রাখা হয়েছিল। এখন সেই ১২ বিঘা ৭ শতাংশ জমি বেদখল হয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নরসিংদী অঞ্চলের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) হুমায়ুন কবির বলেন, জমিটি নিয়ে মামলার জটিলতা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমিতে স্থাপনা নির্মাণের বিধান নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তারাব পৌরসভার প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকারি জমি ও খেলার মাঠ দখলের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।