× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সখীপুর হাসপাতালে শুধু নেই আর নেই

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬ ২২:৫৫ পিএম

ছবিতে বিদ্যুৎ না থাকায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে হাসপাতাল বেডে খাবার খাচ্ছে এক রোগী

ছবিতে বিদ্যুৎ না থাকায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে হাসপাতাল বেডে খাবার খাচ্ছে এক রোগী

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নেই জেনারেটর, নেই আইপিএস, নেই আল্ট্রাসনোগ্রাম, নেই এক্স-রে মেশিন, নেই জনবল, নেই আবাসিক ভবন। অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও ড্রাইভার নেই। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু নেই আর নেই। 

সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি শুধু নামেই ৫০ শয্যার হাসপাতাল। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতাল অন্ধকার পুরীতে পরিণত হয়। অপরদিকে প্রচণ্ড গরমে রুমে নেই ফ্যানের ব্যবস্থা। ফলে ভর্তিকৃত রোগীদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। জেনারেটর অচল আবার আইপিএস নেই। 

তিনটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও সব দীর্ঘদিন ধরে অচল। একটি মাত্র এক্স-রে মেশিন, তাও আবার অ্যানালগ। এ মেশিনে নির্ভুল রিপোর্ট বা সঠিক রোগ নির্ণয় আশা করা যায় না। 

কমপ্লেক্সের আবাসিক ভবনগুলোর অবস্থা খুবই লাজুক। এখানে চিকিৎসক ও কর্মচারী থাকা তো দূরের কথাÑ সাপ, পোকাদের বাসস্থান হয়ে গেছে। ছয়টি আবাসিক ভবনের সবকটিই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভবনের চারপাশ ঝোপ-জঙ্গলে ঘেরা। দীর্ঘদিন ভবনগুলো অব্যবহৃত থাকায় এখন সাপ-বিচ্ছুর অভয়ারণ্য হয়ে আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওয়ার্ডবয়, অফিস সহায়ক, আয়া ও বাবুর্চির পদ শূন্য হয়ে আছে অনেক দিন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক পদে ৬, স্বাস্থ্য সহকারী ২৫, অফিস সহকারী ৫, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ৩ ও একজন নিরাপত্তা প্রহরীর পদ শূন্য রয়েছে। আয়া বা পরিচ্ছন্নতাকর্মী না থাকায় অফিস কক্ষে বসার চেয়ার-টেবিল চিকিৎসকদেরই মুছতে হচ্ছে।

গাইনি বিভাগে চিকিৎসক রয়েছে একজন। তিনি সপ্তাহে অফিস করেন মাত্র দুই দিন। ফলে এই বিভাগের রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ ছাড়া আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক রয়েছে একজন, তিনি রোগীদের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অ্যালোপ্যাথিকে। ব্যবস্থাপত্রও লিখছেন। এমনই নাজুক পরিস্থিতিতে চলছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।

এই হাসপাতালে চিকিৎসকের ৩৫টি পদের বিপরীতে আছেন ২৯ জন। চিকিৎসক সংকট তুলনামূলক কম থাকলেও অবকাঠামোগত দুর্বলতা খুবই প্রকট। প্রয়োজনীয় কক্ষ না থাকায় প্রতিটি কক্ষে ৩-৪ জন চিকিৎসককে গাদাগাদি করে বসতে হচ্ছে। ফলে রোগীকে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা। ব্যাহত হচ্ছে সেবার মান। অন্যদিকে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ভর্তি হচ্ছে কমপক্ষে ২৫-৩০ জন রোগী। 

চিকিৎসা নিতে আসা অন্তঃসত্ত্বা শেফালী আক্তার জানান, আল্ট্রা করতে না পেরে চিকিৎসকদের পরামর্শে ক্লিনিকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করিয়েছেন। হাসপাতালে কয়েক দিন এসেও গাইনি ডাক্তার না পেয়ে ক্লিনিকে গিয়ে তাকে সেবাও নিতে হয়েছে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগী রেবেকা বেগম বলেন, ‘হাসপাতালে এসে ডাক্তারের ব্যবস্থাপনাপত্র হাতে পেলেও বাইরে থেকে ওষুধ কিনেছি।

সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম সবুর রেজা বলেন, আশপাশের ৩টি উপজেলার রোগী এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন। এতে চিকিৎসকদের সেবা প্রদান করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে । তিনি দ্রুত হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি জানান।

গাইনি চিকিৎসক কাজী আমরিন বলেন, ‘আমি নিয়ম মেনেই ছুটি নিই।’ এ ছাড়া আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহেনা পারভীন বলেন, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে মেশিন, জেনারেটর, আবাসিক ভবন মেরামত, শূন্য পদ পূরণ ও প্রয়োজনীয় ওষুধের চাহিদার বিষয়টি বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা